সূত্রের খবর, মার্কিন সংস্থার তৈরি এই বিমানগুলিকে আপাতত বসিয়ে দিয়ে একটি বিস্তারিত সুরক্ষা পর্যালোচনার ভাবনা নিতে চলেছে কেন্দ্র।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 June 2025 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড়ানের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভেঙে পড়া (Ahmedabad Plane Crash) এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ বিমান (Air India Boeing Dreamliner 787) নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। প্রশ্ন উঠেছে বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে। এই দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরই জানা গেল, বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের সমস্ত বিমান ‘গ্রাউন্ড’ করার অর্থাৎ বসিয়ে দেওয়ার ভাবনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সূত্রের খবর, মার্কিন সংস্থার তৈরি এই বিমানগুলিকে আপাতত বসিয়ে দিয়ে একটি বিস্তারিত সুরক্ষা পর্যালোচনার ভাবনা নিতে চলেছে কেন্দ্র। এর জন্য ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহণ দফতর ও মার্কিন নিয়ামক সংস্থাগুলির মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে। যদিও সরকারের তরফে এখনও কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
তথ্য বলছে, বিমান তৈরি করার পর থেকে এখনও পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি ৭৮৭ মডেলের বিমান বিক্রি করেছে বোয়িং। বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে এই মডেলের ৪৭টি বিমান রয়েছে। কিন্তু বহুদিন আগে থেকেই এই মডেলের বিমানগুলির সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকী, বোয়িংয়ে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মী বিমানের সুরক্ষা আপস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তারপর আমদাবাদের এই ঘটনা তো বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সূত্র মারফৎ জানা গেছে, বোয়িং বিমান আপাতত না চালানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ভারত সরকার। এদিকে, এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হতে পারে। যদি বিমানের রক্ষণাবেক্ষণে কোনও খামতি বা গাফিলতি পাওয়া যায়, তবে সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হতে পারে। এরই মধ্যে আবার যাত্রীদের সমস্যার বিষয়টিও মাথাছাড়া দিয়েছে। কারণ, সরকারের ভাবনা অনুযায়ী এই সব বিমানগুলিকে যদি গ্রাউন্ড করে দেওয়া হয় তাহলে বিদেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়বেন বহু মানুষ।
প্রসঙ্গত, দেশের তো বটেই বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার একটি আমদাবাদে বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনা। দুর্ঘটনার পরই তদন্ত শুরু করেছে ডিজিসিএ এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থা। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল পেতে এখনও সময় লাগবে। কারণ 'ব্ল্যাক বক্স' এখনও উদ্ধার হয়নি। বিমানের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করতে কাজ চালাচ্ছে বিশেষজ্ঞ দল। তবে দুর্ঘটনাস্থলে ব্যাপক আগুন ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে থাকার কারণে উদ্ধারকাজ বেশ কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।