নেটিজেনদের অনেকে একে অলৌকিক বলেই দাবি করছেন। ঠিক যেমন অলৌকিক, এই দুর্ঘটনায় একমাত্র বিশ্বাস কুমার রমেশের বেঁচে ফেরাটা।

শেষ আপডেট: 13 June 2025 15:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় সারা দেশ জুড়ে শোকের ছায়া। উদ্ধারকাজ চলছে সমানে। এমন সময় সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে এমন এক দৃশ্য সামনে এসেছে, তাকে অলৌকিক কীই বা বলা যেতে পারে! ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় যখন সব প্রায় ভস্মীভূত, সেই জায়গা থেকেই পাওয়া গেল একটি শ্রীমদ্ভগবদ গীতা, সম্পূর্ণ অবিকৃত।
মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪১ জন, তাঁদের প্রত্যেকেই ওই বিমানের যাত্রী। বেঁচে ফিরেছেন মাত্র একজন। যে হাসপাতালের হোস্টেলে বিমানটি ভেঙে পড়ে, সেখানে ৩ জন এমবিবিএস পড়ুয়ার মৃত্যুর পাশাপাশি প্রায় ৪৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন গুজরাত। তার মাঝে গীতার একটি কপি অক্ষত থাকার বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
হয়তো ওই বই বিমানের যাত্রীদের কারও, হয়তো বা কলেজ হোস্টেলের পড়ুয়াদের মধ্যে কোনও একজনের। সঠিক জানা নাও যেতে পারে কোনওদিন যে, কার শেষ মুহূর্তের সঙ্গী ছিল ওই গীতা।
একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে একজন ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে পাওয়া গীতার পাতাগুলো উল্টে দেখাচ্ছেন। পাতাগুলোতে কোনও আগুনের দাগ পর্যন্ত নেই, যা দেখে নেটিজেনদের অনেকে একে অলৌকিক বলেই দাবি করছেন। ঠিক যেমন অলৌকিক, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় একমাত্র বিশ্বাস কুমার রমেশের বেঁচে ফেরাটা।
After the #AirIndiaPlaneCrash a seemingly miraculous find emerged: A BHAGWAD GITA, entirely untouched by Fire. Everything else was ruined, the sacred text remained untouched. Seen as a profound symbol of divinity of Sanatan Dharma.#planecrashahmedabadpic.twitter.com/j4W8ArGRnt
— Adv Pravin Bhoj (@advpravinbhoj) June 13, 2025
১২ জুন, বৃহস্পতিবার দুপুরে, এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (ফ্লাইট AI-171) লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশে আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে নিয়মমাফিক যাত্রা শুরু করেছিল। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয় পার্শ্ববর্তী মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের ওপর ভেঙে পড়ে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছল গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার নির্দেশ দেন সঙ্গে সঙ্গে। বলেন, 'এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সমস্ত দফতরকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাতে বলা হয়েছে।'
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-কে ঘটনাস্থলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে চালু করা হয় হেল্পলাইন নম্বর। পরিস্থিতি সামাল দিতে গুজরাত সরকার রাজ্য ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারে একটি কন্ট্রোল রুম খোলার সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্তমানে দেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বিজে মেডিক্যাল কলেজে। ডিএনএ সংগ্রহ করা হচ্ছে মৃতের পরিজনদের।
সেই সময় দুর্ঘটনাস্থলের তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যার ফলে শুধু মানুষ নয়, পশু-পাখিরাও রেহাই পায়নি। ভয়ঙ্কর তাপে কেউ বেরিয়ে আসার সুযোগই পায়নি, উদ্ধারকার্যেও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। সেখানে একদম অবিকৃত এবং অক্ষত ওই গীতা, কী করে! ভেবে কুল পাচ্ছেন না নেটিজেনরা।