এসডিআরএফের তরফে জানানো হয়েছে, ছাইয়ের মধ্যেই খুঁজে খুঁজে বের করতে হচ্ছে দেহাবশেষ।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 13 June 2025 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ভেঙে পড়ার খবর এখন সকলের জানা। শোক প্রকাশ করার ভাষা নেই দেশবাসীর। একসঙ্গে এতগুলো প্রাণ! সকলের মুখে একটাই কথা। বৃহস্পতিবার জানা গিয়েছিল পুড়েছে ১.২৫ লক্ষ লিটার জ্বালানি। ফলে কাউকে বাঁচানো চেষ্টা পর্যন্ত করা যায়নি। আগুনের তীব্রতা এতটা বেশি ছিল যে পুড়ে ছাই সমস্ত দেহ। ডিএনএ টেস্ট ছাড়া শনাক্ত পর্যন্ত করা যাচ্ছে না।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর, বৃহস্পতিবার রাতে সরকারি আধিকারিকরা জানালেন, দুর্ঘটনাস্থলের তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যার ফলে শুধু মানুষ নয়, পশু-পাখিরাও রেহাই পায়নি। ভয়ঙ্কর তাপে কেউ বেরিয়ে আসার সুযোগই পায়নি, উদ্ধারকার্যেও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমানটি আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড়েছিল দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি মেঘানীনগর এলাকার একটি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় ২৫ হাজার গ্যালন এভিয়েশন ফুয়েল থাকায় মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে যায়।
'এই আগুনের মধ্যে কেউ বাঁচতে পারে না,' বৃহস্পতিবার দিনই বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, উদ্ধারকারীরা চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেননি, কিন্তু এমন অগ্নিকাণ্ডে কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনাই ছিল না।
রাজ্যের স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF)-এর এক আধিকারিক জানান, তাঁরা খবর পেয়ে ২টা থেকে ২.৩০-এর মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। এর মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকজন আহতকে বের করে আনেন। কিন্তু SDRF-এর পৌঁছনোর পর আর একটিও জীবিত মানুষ উদ্ধার করা যায়নি।
এক উদ্ধারকারী বলেন, 'পিপিই পরে এসেছিলাম। কিন্তু এত গরম ছিল যে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। চারদিকে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ। তার মধ্যেই টুকরো টুকরো করে মৃতদেহ বার করেছি।' তাঁর দাবি, ২৫ থেকে ৩০টি দেহ উদ্ধার করেছেন তাঁরা। যার মধ্যে শিশুদেরও দেহ ছিল।
এক অন্য কর্মী বলেন, 'আমি ২০১৭ সাল থেকে বাহিনীতে আছি। অনেক দুর্ঘটনা দেখেছি। কিন্তু এমন আগুন, এমন মৃত্যুর ছবি আগে কখনও দেখিনি।'
দেহগুলির অবস্থা এতটাই খারাপ যে পরিচয় নির্ধারণ এককথায় অসম্ভব। এসডিআরএফের তরফে জানানো হয়েছে, ছাইয়ের মধ্যেই খুঁজে খুঁজে বের করতে হচ্ছে দেহাবশেষ।
আরও অবাক করা কথা জানালেন এক ফায়ার অফিসার। বললেন, 'বিমানের ট্যাঙ্ক ফেটেই বিস্ফোরণ। সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে জ্বলে উঠল আগুন। এমন পরিস্থিতিতে শুধু মানুষ নয়, কুকুর, বিড়াল, পাখিরাও বাঁচার সময় পায়নি। সবই ছাই।'
রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সের মধ্যে, ধ্বংসাবশেষের পাশে এখনও ছড়িয়ে রয়েছে পোড়া কুকুর ও পাখির মৃতদেহ। তীব্র তাপের ফলে পুড়ে ছাই গাছ-পালাও।
বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট মৃত্যুসংখ্যা ঘোষণা করেনি সরকার। মাঝরাতে এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় ২৪২ এর মধ্যে ২৪১ জনেরই মৃত্যু হয়েছে।
এক উদ্ধারকারী বলছেন, 'এই দুর্ঘটনা ভারতের অসামরিক বিমান পরিষেবার ইতিহাসে অন্ধকারতম দিন হয়ে থাকবে।'