শনিবার সকালে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি বিশেষ উড়ান প্রায় ১২ টনের ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কলম্বোয় পৌঁছেছে। তাতে ছিল তাঁবু, ত্রিপল, কম্বল এবং খাদ্যসামগ্রী। এর আগের দিন, শুক্রবারও ভারত জরুরি ত্রাণ পাঠিয়েছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 November 2025 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’-র (Cylcone Ditwah) আঘাতে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার (Sri Lanka) পাশে দাঁড়াতে বিশেষ মানবিক সহায়তা প্রকল্প ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’ (Operation Sagar Bandhu) শুরু করল ভারত (India)। গত ২৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়টি দ্বীপজুড়ে প্রবল বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা ও ধসের (Flood and Landslide) সৃষ্টি করার পরই নয়াদিল্লি জরুরি ত্রাণ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
শনিবার সকালে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) একটি বিশেষ উড়ান প্রায় ১২ টনের ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কলম্বোয় (Colombo) পৌঁছেছে। তাতে ছিল তাঁবু, ত্রিপল, কম্বল এবং খাদ্যসামগ্রী। এর আগের দিন, শুক্রবারও ভারত জরুরি ত্রাণ পাঠিয়েছিল। দেশের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর (S Jaishankar) সামাজিক মাধ্যমে জানান, এই সহায়তা ভারত–শ্রীলঙ্কা ঘনিষ্ঠতার (India-Sri Lanka Relation) স্বাভাবিক প্রতিফলন।
শ্রীলঙ্কায় অবস্থানরত ভারতীয় নৌসেনার জাহাজ আইএনএস বিক্রান্ত (INS Vikrant) ও আইএনএস উদয়গিরি (INS Udaygiri) থেকেও প্রথম পর্যায়ের রেশন হস্তান্তর করা হয়েছে। তাতে ছিল প্রায় ৪.৫ টন শুকনো খাবার এবং ২ টন তাজা রেশন, তার সঙ্গে দুগ্ধজাত পণ্য, বেকারি সামগ্রী, প্রস্তুত খাবার ও পানীয়। ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, এই উদ্যোগ ভারতের 'Neighbourhood First' নীতির অংশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সাহায্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কায় দিতওয়াহ-র তাণ্ডব
একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার খবর অনুযায়ী, শুক্রবার উত্তরমুখী হয়ে যাওয়ার আগে ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) শ্রীলঙ্কার পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে লাগাতার বৃষ্টি বর্ষণের ফলে মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এখনও পর্যন্ত দ্বীপদেশ থেকে ১২৩ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে, নিখোঁজ প্রায় ১৩০ জন, ক্ষতিগ্রস্ত ৪৪,০০০ এর বেশি মানুষ।
অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে ধস নামার (Landslide) কারণে। বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে স্কুল ও সরকারি ভবনে। পোলোনারুয়া জেলার এক সেতুতে আটকে পড়া ১৩ জনকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী (Army)। বন্যার জেরে বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ ব্যাহত হয় এবং অন্তত ১৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে তিরুবনন্তপুরম ও কোচি বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
দেশজুড়ে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করতে শ্রীলঙ্কা সরকার সেনা (Sri Lanka Army), নৌ ও বায়ুসেনাকে একযোগে কাজে লাগিয়েছে। নৌকায় আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হচ্ছে, আর সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছতে যেখানে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের (DMC) কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এ বার বন্যার প্রকোপ ২০১৬ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে - যে বছরে জলে ডুবে দেশজুড়ে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
গত কয়েক বছরে বৃষ্টি-জনিত বিপর্যয়ের যে ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যেও এ সপ্তাহের মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত বছরের জুনে ভারী বর্ষণে প্রাণ গিয়েছিল ২৬ জনের। তার আগে ডিসেম্বরে ভূমিধস ও বন্যায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়।
শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী বন্যা নথিবদ্ধ হয়েছিল ২০০৩ সালের জুনে - যখন প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও ধসে মৃত্যু হয় ২৫৪ জনের। বর্তমান বিপর্যয় ঘিরে সেই স্মৃতি ফের আতঙ্ক বাড়াচ্ছে দ্বীপজুড়ে।