কাউন্সিলে কথা বলার সময় সুইজারল্যান্ড ভারতকে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 11 September 2025 08:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতিসঙ্ঘের 'হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল' (UNHRC)-এ সুইজারল্যান্ড (Switzerland) যে মন্তব্য করেছিল তার কড়া ভাষায় নিন্দা করে জবাব দিল ভারত (India)। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘুদের (Minority) প্রতি আচরণ নিয়ে সুইজারল্যান্ডের মন্তব্য 'ভুল তথ্যে ভরা'।
জেনেভায় (Geneva) বুধবার জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মৌখিক আপডেটের ওপর সাধারণ বিতর্কের সময় এই ঘটনাটি ঘটে।
কাউন্সিলে কথা বলার সময় সুইজারল্যান্ড ভারতকে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধি ভারতকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করে।
ভারতের প্রতিক্রিয়া
সুইজারল্যান্ডের মন্তব্যের জবাবে জেনেভায় ভারতের স্থায়ী মিশনের কাউন্সিলর ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, "আমরা আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অংশীদার সুইজারল্যান্ডের দেওয়া ভুল তথ্যে ভরা মন্তব্যের জবাব দিতে চাই। তারা যেন এমন ভিত্তিহীন এবং ভারতের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কহীন বিষয় নিয়ে কাউন্সিলের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে। এর পরিবর্তে, তাদের নিজেদের দেশের পরিকল্পিত বৈষম্যবাদ এবং জেনোফোবিয়ার (xenophobia) মতো চ্যালেঞ্জগুলির ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত।''
তাঁর আরও সংযোজন, ''বিশ্বের বৃহত্তম, সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং প্রাণবন্ত গণতন্ত্র হিসেবে, যার সভ্যতার মূল ভিত্তিই হল বহুত্ববাদ, সেই ভারত সুইজারল্যান্ডকে এই সমস্যাগুলি সমাধানে সাহায্য করতে প্রস্তুত।"
একই দিনে, ভারত পাকিস্তানের মন্তব্যের জবাবেও একটি পৃথক এবং কঠোর জবাব দেয়। ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানকে রাজনৈতিক প্রচারের জন্য কাউন্সিলকে অপব্যবহার করার অভিযোগ করেন। তিনি আরও একবার ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক।
ত্যাগী বলেন, "আমরা আবারও এমন একটি দেশের উস্কানির জবাব দিতে বাধ্য হচ্ছি, যে দেশের নেতৃত্ব সম্প্রতি এটিকে একটি 'ডাম্পার ট্রাক'-এর সঙ্গে তুলনা করেছে। এটি হয়তো অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি রাষ্ট্রের জন্য উপযুক্ত উপমা, যা এই বিশিষ্ট কাউন্সিলের সামনে মিথ্যে এবং পুরনো তথ্য জমা করে চলেছে।"
তিনি পাকিস্তানের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত একাধিক হামলার কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে পুলওয়ামা, উরি, পাঠানকোট, মুম্বই এবং সম্প্রতি এপ্রিলের পহেলগাম হামলার কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে ত্যাগী ৯/১১ হামলার (9/11 attacks) বার্ষিকীর কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন যে, পাকিস্তান অ্যাবোটাবাদে মার্কিন নেভি সীল (US Navy SEAL) বাহিনীর অভিযানে নিহত হওয়ার আগে পর্যন্ত ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল।