Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটল

ইরান সঙ্কটের মধ্যেও দেশে সরবরাহে ঘাটতি নেই, কেন্দ্রের হিসেবে রোজ ৫০ লক্ষ এলপিজি পৌঁছেছে ঘরে ঘরে

সংকটের সময়ে রান্নার গ্যাসের জোগান সবচেয়ে সংবেদনশীল সূচক হিসেবে ধরা হয়। এই ক্ষেত্রেও ভারত স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। ১ মার্চ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ লক্ষের বেশি গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজির ফ্রি-ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে।

ইরান সঙ্কটের মধ্যেও দেশে সরবরাহে ঘাটতি নেই, কেন্দ্রের হিসেবে রোজ ৫০ লক্ষ এলপিজি পৌঁছেছে ঘরে ঘরে

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 1 April 2026 17:18

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘর্ষের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যখন চরম অস্থিরতা, তখন দেশের ভিতরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে ভারত (India energy stability LPG supply)। ইরান-সংক্রান্ত এই সংঘর্ষের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লেও, কেন্দ্রীয় সরকার জোর দিচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা (Energy supply in India), অভ্যন্তরীণ বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার উপর।

এই পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে মুম্বই বন্দরে এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘BW TYR’-এর নোঙর করার মাধ্যমে। সরকারি সূত্রের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সমস্যা থাকলেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও ভাঙন তৈরি হয়নি। দেশের বিভিন্ন বন্দরে স্বাভাবিকভাবে কাজ চলছে, কোথাও জট বা চাপ তৈরি হয়নি - যা এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বড় স্বস্তির ইঙ্গিত।

গ্যাস সংযোগ বাড়াতে জোর

দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস পরিষেবা বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) সংস্থাগুলিকে দ্রুত গতিতে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘ন্যাশনাল PNG ড্রাইভ ২.০’-এর মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। এর ফলও মিলছে।

শুধু মার্চ মাসেই ৩.১ লক্ষের বেশি নতুন সংযোগ সক্রিয় হয়েছে এবং বর্তমানে আরও ২.৭ লক্ষ সংযোগ দ্রুত চালু করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এলপিজি সরবরাহে স্থিরতা

সংকটের সময়ে রান্নার গ্যাসের জোগান সবচেয়ে সংবেদনশীল সূচক হিসেবে ধরা হয়। এই ক্ষেত্রেও ভারত স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। ১ মার্চ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ লক্ষের বেশি গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজির ফ্রি-ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে।

২৩ মার্চ থেকে ৩.২ লক্ষের বেশি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে, একদিনেই ৬৩,০০০-এর বেশি সিলিন্ডার বিতরণ হয়েছে।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, সংঘর্ষ-পীড়িত অঞ্চল থেকে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার কাজও জোরকদমে চলছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৫.৭২ লক্ষের বেশি যাত্রী ভারতে ফিরেছেন। ভারতের দূতাবাসগুলি ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে এবং বিভিন্ন দেশে হেল্পলাইন চালু রয়েছে।

সমুদ্রপথেও ঝুঁকি রয়ে গেছে। তবুও এখনও পর্যন্ত ৯৫৯ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে দেশে ফেরানো হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ফিরেছেন ৯ জন।

এতে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সরকার সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করছে।

এই সংঘর্ষের ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালীতে, যা বিশ্ব তেল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এখানে বিঘ্ন ঘটায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি ট্যাঙ্কারের বিমা খরচও বেড়ে গিয়েছে। ফলে বহু দেশ নিজেদের কৌশলগত মজুত বাড়ানো এবং বিকল্প সরবরাহ উৎস খোঁজার পথে হাঁটছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের কৌশল স্পষ্ট - একদিকে দেশের ভিতরে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখা, অন্যদিকে বিদেশে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সরকারি সূত্রের মতে, লক্ষ্য একটাই - “আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতি”, যাতে বিশ্ব পরিস্থিতি যতই অস্থির হোক, দেশের ভিতরে প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও সরবরাহে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে।


```