মাসের শেষে সব মিলিয়ে গৃহস্থের সিলিন্ডারের চাহিদা কিছুটা কমেছে, দাবি হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের। যেমন কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে তাদের কয়েকটি জেলায় গড়ে দৈনিক বুকিংয়ের হার এখন পঞ্চাশ হাজারের কাছাকাছি। মাঝে তা অনেক বেড়েছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 March 2026 20:25
ইরান-যুদ্ধের (Iran War) এক মাস অতিক্রান্ত। পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। তার জেরে ভারতে রান্নার গ্যাসের জোগানে কিছুটা সমস্যা হলেও গোড়ার চেয়ে এখন তা তুলনায় কম। তেল সংস্থাগুলির দাবি, এ রাজ্যেও বিশেষ করে গৃহস্থের হেঁশেলের এলপিজি সিলিন্ডারের (১৪.২ কেজি) জোগানের পরিস্থিতির জটিলতা অনেকটাই কেটেছে। যদিও গ্রাহক ও ডিস্ট্রিবিউটরদের (বিক্রেতা) একাংশের দাবি, এখনও অনেক জায়গায় বুকিংয়ের (Gas Cylinder Booking) পরে সিলিন্ডার পেতে ৭-১০ দিন, এমনকি দু'সপ্তাহও সময় লাগছে। সেই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না সংস্থাগুলি। তবে তাদের দাবি, সেই সংখ্যা খুবই কম। তবুও কোথায় কোথায় এমন ঘটনা ঘটছে, সেই সব এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিবিউটরদের চিহ্নিত করে সমস্যা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজির দাম যেমন এই মাসে অনেক বেড়েছিল, তেমনি হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) দিয়ে সেই সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় যোগানও কিছুটা ধাক্কা খায়।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির অবশ্য গোড়া থেকেই দাবি, যোগানে টান ছিল না। কিন্তু বহু গ্রাহক সেই মুহূর্তে প্রয়োজন না থাকলেও আতঙ্কের ( panic) বুকিংয়ের জন্য আচমকা চাহিদা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এর ফলে সিলিন্ডার জোগানে ‘কৃত্রিম’ সঙ্কট তৈরি হওয়ায় জোগানও নিয়ন্ত্রিত করতে হয়। এও দেখা গিয়েছে যে, ঘরে খালি সিলিন্ডার না থাকলেও কিছু গ্রাহক নতুন বুকিং করায় সিলিন্ডারবাহককে (ডেলিভারি ম্যান) নতুন সিলিন্ডার নিয়ে গিয়েও শেষে ফেরত আনতে হয়েছে।
তবে গ্রাহকদের অনেকেরই এখনও অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়সীমার পর বুকিং যদিও বা করা যায়, সেই সিলিন্ডার পেতে সাত থেকে ১৪ দিন লেগে যাচ্ছে। সবার পক্ষে বিকল্প বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা করাও সম্ভব নয়।
এমন ঘটনার কথা কিছুটা মানছে কোনও কোনও টেল সংস্থা। কিন্তু তাদের দাবি, এমন গ্রাহকের সংখ্যা মোট গ্রাহকের তুলনায় নগণ্য, ২-৩ শতাংশ হতে পারে। তাও সব জায়গায় নয়। কিছু নির্দিষ্ট এলাকায়। পাশাপাশি দু দিনেই সিলিন্ডার পাওয়ার ঘটনার কথাও সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়েছেন।
ইন্ডেন সূত্রের দাবি, এখন বুকিং করার পর এই রাজ্যে গড়ে দিন পাঁচেকের মধ্যেই সিলিন্ডার মিলছে। তবুও কোথাও কোথাও ৭-১০ দিন বা তার বেশি সময় লাগলে সেই সব জায়গার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেখানকার ডিস্ট্রিবিউটরদের চাহিদা, জোগান ও মজুদ ভান্ডার যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যদিও সংস্থাটির একাংশের দাবি, এখনও মাঝে মধ্যে হঠাৎ করেই সেই আতঙ্কের বুকিং করার চল রয়েছে। যেমন গত রবিবারই রাজ্যে তাদের মত বুকিং ছড়িয়েছিল সাড়ে তিন লক্ষ। অথচ এখন গড়ে দৈনিক সেই বুকিং ২.৪০ লক্ষের আশেপাশে হয়। ফলে হঠাৎ হঠাৎ চাহিদা এমন বাড়লে সমস্যা হতেও পারে।
মাসের শেষে সব মিলিয়ে গৃহস্থের সিলিন্ডারের চাহিদা কিছুটা কমেছে, দাবি হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের। যেমন কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে তাদের কয়েকটি জেলায় গড়ে দৈনিক বুকিংয়ের হার এখন পঞ্চাশ হাজারের কাছাকাছি। মাঝে তা অনেক বেড়েছিল। তারাও ৪-৫ দিনের মধ্যে সিলিন্ডার জোগানে দিচ্ছে বলে দাবি করেছে। তবে কোথাও বেশি সময় লাগলে তার কারণ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপের কথাও জানাচ্ছে।
ভারত পেট্রোলিয়াম মঙ্গলবার দাবি করেছে, তাদের ভারত গ্যাসের গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের যোগানে কোনও ঘাটতি নেই। এ রাজ্যে তাদের গ্রাহক সিলিন্ডার বুক করার পর গড়ে ৪.১ দিনের মধ্যে তা পাচ্ছেন। কিছু জায়গায় তা কম বেশি হতে পারে। তবুও বুকিং করার পর সিলিন্ডার পাওয়ার সময় আগের চেয়ে কমে আসছে। সেই সঙ্গে ১০০% ক্ষেত্রেই গ্রাহকেরই কেওয়াইসি থাকা বাধ্যতামূলক। তা সম্পূর্ণ করা না থাকলে সেই গ্রাহকের সিলিন্ডার বণ্টনে কিছু দেরি হতে পারে।