Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’‘বাংলাকে না ভেঙেই গোর্খা সমস্যার সমাধান’, পাহাড় ও সমতলের মন জিততে উন্নয়নের ডালি শাহেরথাকবে না লাল কার্ড, খেলা ৫০ মিনিটের! ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করতে ছকভাঙা প্রস্তাব নাপোলি-প্রধানেরনতুন সূর্যোদয়! নীতীশের ছেড়ে যাওয়া মসনদে সম্রাট চৌধুরী, প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পেল বিহারমাত্র ৫০০ টাকার পরীক্ষা বাঁচাবে কয়েক লাখের খরচ, কেন নিয়মিত লিভারের চেকআপ জরুরি?অভিষেক ও তাঁর স্ত্রীর গাড়িতে তল্লাশির নির্দেশ! কমিশনের ‘হোয়াটসঅ্যাপ নির্দেশ’ দেখাল তৃণমূল৪২-এ বেবি বাম্প নিয়েও ওয়েট লিফটিং! স্বামী বরুণের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে রোম্যান্স করিশ্মার

অগ্নিকুণ্ডে বন্দি হয়ে ঝলসে মৃত্যু! অন্ধ্র থেকে রাজস্থান, কেন ভলভো বাসগুলো হয়ে উঠছে মৃত্যুফাঁদ

২০১৩ সালের ভলভো আগুন থেকে জয়সলমির ২০২৫—কেন আজও নিরাপদ নয় ভারতের রাস্তায় রাতের বাসযাত্রা।

অগ্নিকুণ্ডে বন্দি হয়ে ঝলসে মৃত্যু! অন্ধ্র থেকে রাজস্থান, কেন ভলভো বাসগুলো হয়ে উঠছে মৃত্যুফাঁদ

জয়সলমীরে দগ্ধ বাস।

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 16 October 2025 18:01

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত তখন গভীর। বাসের ভিতরে ঘুমে ঢুলছেন সবাই। কেউ ফিরছেন শহর থেকে গ্রামে, কেউ যাচ্ছিলেন কাজে। রাস্তায় হঠাৎ এক শব্দ, ধাতব চিৎকারের মতো। তারপর ধোঁয়া, আগুন, আতঙ্ক। এভাবেই ২০১৩ সালের অক্টোবরে হায়দরাবাদগামী এক ভলভো বাসে আগুন ধরে ৪৫ জন মানুষ পুড়ে মারা যান।

অন্ধ্রপ্রদেশের পালেম গ্রামের কাছে ঘটনা এই ঘটনায় বাসটি হাইওয়েতে একটি কালভার্টে ধাক্কা খায়, মুহূর্তের মধ্যেই ফুয়েল ট্যাঙ্ক ফেটে বিস্ফোরণ হয়। কাচের বন্ধ জানলা, দরজা খুলতে পারেনি কেউ। ঘুম থেকে উঠে চিৎকার করতে করতেই শেষ হয়ে যান যাত্রীরা।

7 killed in another Volvo bus fire mishap

সেই বছরই, নভেম্বর মাসে, আরেকটি বাসে আগুন। বেঙ্গালুরু-মুম্বইগামী এক ভলভো বাস কর্নাটকের হাভেরির কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কালভার্টে ধাক্কা খেয়ে আগুনে পুড়ে যায়। সাতজন মারা যান— তাঁদের মধ্যে ছিল তিন শিশু, এক মহিলা।

দশ বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও গল্পটা বদলায়নি। ২০২৫ সালের সেই অক্টোবর। থর মরুভূমির পথ দিয়ে যাওয়ার সময়ে ১৪ অক্টোবরের রাতটা ছিল এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন। জয়সলমীর থেকে যোধপুরগামী একটি বেসরকারি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার বাসে ৫৭ জন যাত্রী ছিলেন। ছিলেন একই পরিবারের একাধিক সদস্য, শিশু, শ্রমিক সকলে। হঠাৎই বাসে বিস্ফোরণ এবং আগুন থাইয়াত গ্রামের কাছে, জয়সলমীর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে।

ঝকঝকে নতুন এসি বাসটি মাত্র পাঁচ দিন আগে পথে নামানো হয়েছিল। সে যে এমনভাবে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হবে, কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি। ঘটনাস্থলে ২১ জনের মৃত্যু হয়, তাদের মধ্যে তিনজন শিশু। আরও ১৬ জন গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমি হঠাৎ এক ভয়ংকর বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম। বেরিয়ে দেখি বাসটি পুরো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। যাত্রীদের বের করতে দরজা ভাঙতে হয়েছিল।”

সস্তা চলাচলের মাধ্যম না কি মৃত্যুফাঁদ?

এই দুর্ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বারবারই এমন মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড প্রমাণ করে দিয়েছে— এদেশের এই বড় ভলভো বাসগুলো আসলে এক একটা চলন্ত বিপদ।

সস্তায় যাতায়াতের জন্য বানানো এই বাসগুলোয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হয় সবসময়। বাসের ভিতরে থাকে দাহ্য আসন, ফোম, তারে ভরা সংকীর্ণ গঠন— ফলে একটি ছোট স্পার্কেই মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আর তখন সিটে বসে বা দাঁড়িয়ে জীবন্ত ঝলসে যাওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকে না।

একজন দিল্লি ফায়ার সার্ভিস অফিসার সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আগুন নয়, আগুনের তাপই মানুষকে মেরে ফেলতে যথেষ্ট। বাসে আগুন ধরলে সেই তাপমাত্রা ৬০০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। গরম বাতাস ফুসফুস পুড়িয়ে দেয়, পোশাক গলে ত্বকে লেগে যায়। পাঁচ মিনিটেই সবকিছু আগুনে শেষ।’

কেন ফাঁদে পড়েন যাত্রীরা?

জয়সলমীরের মতো স্লিপার বাসে উপরের বার্থের যাত্রীরা নীচের একমাত্র দরজার থেকে অনেক দূরে থাকেন। ঘুমন্ত যাত্রীরা যখন বুঝে ওঠেন, তখনই ধোঁয়া ভরে যায় পুরো বাসে।

রাজস্থানের স্বাস্থ্য মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং খিমসার বলেন, “ওই বাসে মাত্র একটি এক্সিট ছিল। সবাই সেই পথ দিয়েই পালাতে চেয়েছিল। ফলে আইলে জটলা তৈরি হয়ে পথ বন্ধ হয়ে যায়।”

ভারতের বেসরকারি বাস অপারেটররা চাহিদা মেটাতে প্রায়ই পুরনো বাসে নিম্নমানের এসি ইউনিট বসান। ফলে শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি থাকে। জয়সলমীরের বাসটিও নতুন কেনা হলেও এসি সংযোজন করা হয়েছিল কয়েকদিন আগেই। এটি তদন্তকারীরা আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন।

অধিকাংশ বাসেই কার্যকর অগ্নিনির্বাপক নেই, ধোঁয়া সতর্কতা যন্ত্র বা ভাঙা যায় এমন জানলাও নেই। তাপে দরজার ধাতব ফ্রেম বিকৃত হয়ে যায়, আটকে যায় এক্সিট। জয়সলমীরেও তাই হয়েছিল।

তার উপর, ৫০–৫৫ আসনের বাসে ৭০ জনও তোলা হয় কখনও কখনও। সংকীর্ণ আইলে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো বিপদের সময় প্রথমেই আটকে পড়েন। হুড়োহুড়িতে পিষ্ট হন অনেকেই।

সমাধান কোথায়?

বারবার এমন দুর্ঘটনার পরেও নিরাপত্তা মান উন্নত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘপথ ও পর্যটক বাসে প্রতি তিন মাস অন্তর অগ্নি নিরাপত্তা পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করতে হবে। এসি কম্প্রেসর, ফুয়েল ট্যাংক ও তারের সংযোগও নিয়মিত পরীক্ষা প্রয়োজন।

শুধু তাই নয়, পুরনো বাসে নতুন করে এসি বসানো বা স্লিপার কনভার্সন হলে লাইসেন্সের আগে সেফটি অডিট আবশ্যক। নিরাপত্তা লঙ্ঘন করলে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। এই ব্যবস্থাগুলো না হলে প্রতিটি বাসযাত্রাই হয়ে থাকবে জীবনের সঙ্গে একরকম বাজি ধরা।

ভারতের মতো বিশাল দেশে, যেখানে প্রতিদিন লাখো মানুষ রাস্তায় স্বপ্ন নিয়ে বেরোয়, জয়সলমীরের এই ট্র্যাজেডি এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা— যেন আর কোনও বাসে অগ্নিকুণ্ডে বন্দি হয়ে মানুষকে শেষ না হয়ে যেতে হয়।


```