ভারত (India) বছরে ৬০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি বাসমতি রফতানি (Indian Export) করে, যার অর্ধেকই যায় সৌদি আরব, ইরান, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার বাজারে।

বাসমতী চালের রফতানি আটকে
শেষ আপডেট: 26 March 2026 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোজের ঘরোয়া ভাত থেকে শুরু করে বিশেষ অনুষ্ঠানের বিরিয়ানি- সবেতেই চালের ভূমিকা অপরিহার্য। সেই চালেরই প্রিমিয়াম প্রজাতি বাসমতি (Basmati Rice), যার সুগন্ধ আর লম্বা দানার জন্য দেশ-বিদেশে বিপুল চাহিদা। তাই বাসমতি রফতানিতে একটু টান পড়লেই তার আঁচ লাগে চাষি থেকে মিল মালিক- সকলের জীবনে। এই কারণেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (West Aisa Conflict) পরিস্থিতিতে বর্তমান সঙ্কট ভারতের চাল-নির্ভর বাজার ও অর্থনীতিতে বড় দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (West Aisa Conflict) কারণে দেরি হচ্ছে জাহাজ চলাচলে, আন্তর্জাতিক রুট অস্থির, আর্থিক লেনদেন আটকে যাচ্ছে, ফলে এক ধাক্কায় থমকে গেছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় বাসমতি রফতানি শিল্প (Basmati Rice Export)। হাজার কিলোমিটার দূরের সংঘর্ষের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে মিল মালিক, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের উপর।
মধ্যপ্রদেশের রায়সেন জেলার মতো দেশের বড় বাসমতি (Basmati Rice) উৎপাদন এলাকায় এখন চিত্র একেবারে উল্টো। যে মিলগুলো রফতানির মৌসুমে রাতদিন চালত, সেগুলো আজ প্রায় বন্ধ। রমজান ও ঈদের আগে সাধারণত যে সময়টায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে ভারী পরিমাণ চাল পাঠানো হয়, সেই সময়েই জমে উঠেছে দুশ্চিন্তা আর আর্থিক চাপ।
ভারত (India) বছরে ৬০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি বাসমতি রফতানি (Indian Export) করে, যার অর্ধেকই যায় সৌদি আরব, ইরান, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার বাজারে। সেই নির্ভরশীলতাই এখন বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত, পোর্টে জট, মাঝপথে আটকে যাচ্ছে কনটেইনার- সব মিলিয়ে লজিস্টিকস ভেঙে পড়েছে।
খরচও এখন আকাশছোঁয়া- যেখানে আগে কনটেইনারপ্রতি খরচ ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার ডলার। কনটেইনারও মিলছে না সহজে। বীমা কভারেজ কঠোর হয়েছে, রুট বারবার বদলাতে হচ্ছে, ফলে ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
এ মুহূর্তে প্রায় ১০ লাখ টন বাসমতি চাল ভারতের বিভিন্ন জায়গায় আটকে রয়েছে। অন্য পণ্যের মতো ইউরোপ বা আমেরিকার বাজারে এই চাল সহজে ঢোকানো যায় না, কারণ সেখানকার ভোক্তাদের পছন্দ আলাদা।
সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে অর্থপ্রবাহে। হাজার হাজার কোটি টাকার পেমেন্ট আটকে আছে। শুধু প্রক্রিয়াজাত ১১২১ বাসমতিই কোটি কোটি টাকার মূল্যে বন্দরের গোডাউনে পড়ে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২ হাজার কোটি থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার লেনদেন কার্যত স্থির হয়ে আছে। ফলে মিল মালিকদের ঋণের বোঝা বেড়ে যাচ্ছে, কর্মীদের মজুরি থেকে শুরু করে চলতি খরচ সামলানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই প্রভাব ধীরে ধীরে পৌঁছে যাচ্ছে কৃষকদের কাছেও। মিলগুলোর কেনাবেচা কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতের বপন সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত হতে পারে। সংকট দীর্ঘ হলে মাঠের দরে ধস নামতে পারে, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন চাষিরাই।
সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কিছু পদক্ষেপ ভাবছে ঠিকই, কিন্তু সমাধান নির্ভর করছে যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর। ততদিন পর্যন্ত ভারতের বাসমতি রফতানির ইঞ্জিন থেমে থাকা ছাড়া উপায় নেই, আর সব পক্ষই অপেক্ষায়—সংঘাত থামলেই আবার গতি ফিরবে কি না সেই আশায়।