ভারতীয় সময় বিকেল ৪টা নাগাদ তাঁরা ড্রাগন স্পেসক্র্যাফটে ওঠেন এবং ৪টা ১৫-এর পর যে কোনও সময় স্পেস স্টেশন থেকে আনডকিং শুরু হওয়ার কথা ছিল।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 14 July 2025 20:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা এবং অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের তিন সহযাত্রী সোমবার সন্ধ্যায় ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (ISS) থেকে পৃথিবীর পথে যাত্রা শুরু করার কথা ছিল। যদিও নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কমপক্ষে ১০ মিনিট দেরি হয়েছে, জানিয়েছে নাসা।
ভারতীয় সময় বিকেল ৪টা নাগাদ তাঁরা ড্রাগন স্পেসক্র্যাফটে ওঠেন এবং ৪টা ১৫-এর পর যে কোনও সময় স্পেস স্টেশন থেকে আনডকিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। যাত্রাপথে তাঁরা প্রায় ২৫০ কেজি ওজনের গবেষণার সামগ্রী ও সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়ে ফিরছেন।
যদি সব ঠিকঠাক চলে, তাহলে তাঁরা ১৫ জুলাই, মঙ্গলবার (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) বিকাল ৩টার দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে সমুদ্রে স্প্ল্যাশডাউন করবেন। নাসার বিবৃতি অনুযায়ী, “এই যাত্রা ২২.৫ ঘণ্টার হতে পারে।”
নাসা ও স্পেসএক্স-এর যৌথ উদ্যোগে ২৫ জুন, দুপুরে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ড্রাগন ক্যাপসুল উৎক্ষেপণ করা হয়। শুভাংশু ছিলেন এই অভিযানের পাইলট। ২৬ জুন তা ISS-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
এই অভিযানে শুভাংশু শুক্লা (ISRO, ভারত) ছাড়াও ছিলেন স্লাভোশ উজনানস্কি-ভিসনিয়েভস্কি (ESA, পোল্যান্ড), তিবোর কাপু (HUNOR, হাঙ্গেরি) এবং পেগি হুইটসন (প্রাক্তন NASA অ্যাস্ট্রোনট, এখন Axiom-এর হিউম্যান স্পেসফ্লাইট ডিরেক্টর)।
এই অভিযান সফল হলে, রাকেশ শর্মার পরে শুভাংশুই হবেন দ্বিতীয় ভারতীয় যিনি মহাকাশে গিয়েছেন।
অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনে কী গবেষণা করেছেন শুভাংশু ও তাঁর দল?
দলের গবেষণাগুলির মূল ক্ষেত্র ছিল মহাকাশে মানবদেহের পেশী ও হাড় ক্ষয়, ক্যানসার ও রক্ত সঞ্চালন সংক্রান্ত পরীক্ষা, মাইক্রোগ্রীন ও উদ্ভিদ চাষ এবং মাইক্রোঅ্যালগি চাষ যা ভবিষ্যতের লং-ডিউরেশন স্পেস মিশনের জন্য টেকসই পুষ্টির উৎস। তাঁরা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও গবেষণায় অংশ নেন, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নাসা জানায়, “ISRO ও NASA-র যৌথ অংশীদারিত্বে এই অভিযান হয়েছে। এটি ট্রাম্প ও মোদির সময় ঘোষিত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।”
শুভাংশুর বাবা শম্ভু দয়াল শুক্লা বলেন, “আমরা ওকে এখনই দেখতে পারব না, কারণ ও প্রথমে আমেরিকায় থাকবে। তবে ও দেশে ফিরলে খুব শিগগির দেখা হবে।”
তিনি আরও জানান, “ও আমাদের ভিডিও কল করে দেখিয়েছে, কীভাবে মহাকাশে থাকে, ঘুমোয়, কাজ করে। কেউ হাঁটে না, সবাই ভেসে চলে — ওরা কোমরে বেল্ট বেঁধে দাঁড়িয়ে ঘুমোয়।”
মা আশা দেবী বলেন, “শুভাংশু আমাদের স্পেস থেকে সূর্যোদয়, পৃথিবীর দৃশ্য, পাহাড় ও চাঁদের গতিবিধিও দেখিয়েছে। আমরা শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার শিবমন্দিরে ওর জন্য প্রার্থনা করেছি।”