Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’

ট্রাম্পের কানের গোড়ায় ভারতের বাণিজ্য-বার্তা, আমেরিকার আঙুল ছেড়ে ইউরোপের হাত ধরছেন মোদী

আগামী সোমবার ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের (Republic Day) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় পরিষদের (European Council) প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুই সান্তোস দ্য কস্তা (Antonio Luis Santos da Costa) এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের (European Commission) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন (Ursula von der Leyen)।

ট্রাম্পের কানের গোড়ায় ভারতের বাণিজ্য-বার্তা, আমেরিকার আঙুল ছেড়ে ইউরোপের হাত ধরছেন মোদী

স্পষ্ট ধরা পড়েছে যে, সাধারণতন্ত্র দিবসের অতিথি নির্বাচন ভারতের কূটনৈতিক বার্তাকে (Diplomatic Message) আমেরিকার কানের গোড়ায় পৌঁছে দিতে পেরেছে। কল্পিত ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি করা।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 24 January 2026 12:33

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী সোমবার ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের (Republic Day) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় পরিষদের (European Council) প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুই সান্তোস দ্য কস্তা (Antonio Luis Santos da Costa) এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের (European Commission) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন (Ursula von der Leyen)। রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা (State Banquet) ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনের পাশাপাশি এই দুই ইউরোপীয় নেতার আলোচনার মূল বিষয় হবে— এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতের (India) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এমন এক সময়ে এই আলোচনা হচ্ছে, যখন ইউরোপের সামনে জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি (Geopolitical Situation) তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রথমে ইউরোপীয় বন্ধুদের (European Allies) বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ (Trade War) আরও তীব্র করার হুমকি দিয়েছিলেন গ্রিনল্যান্ড (Greenland) দখলের বিরোধিতার কারণে, পরে যদিও সেই অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন।

ইতিমধ্যেই ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চলতি বাণিজ্য আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক ইঙ্গিত দিয়েছেন, নয়াদিল্লি থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর আরোপিত বর্তমান ৫০ শতাংশ শুল্ক অর্ধেক করা হতে পারে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী (Treasury Secretary) স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেনভারতের তেল শোধনাগারগুলি (Indian Refineries) রাশিয়ার তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। বেসেন্ট বলেন, রাশিয়ার তেল কেনার কারণে আমরা ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছিলাম। কিন্তু ভারতীয় শোধনাগারগুলির রাশিয়ান তেল কেনা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এটাকে আমরা সাফল্য হিসেবেই দেখছি। তিনি স্বীকার করেনশুল্ক এখনও রয়েছে। তবে আমি মনে করিএগুলি তুলে নেওয়ার একটা পথ অবশ্যই রয়েছে।

এতেই অত্যন্ত স্পষ্ট ধরা পড়েছে যে, সাধারণতন্ত্র দিবসের অতিথি নির্বাচন ভারতের কূটনৈতিক বার্তাকে (Diplomatic Message) আমেরিকার কানের গোড়ায় পৌঁছে দিতে পেরেছে। ওয়াশিংটনের (Washington) সঙ্গে ৫০ শতাংশ শুল্ক (50% Tariffs) নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই নয়াদিল্লি (New Delhi) বিশ্বজুড়ে কৌশলগত (Strategic) ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক (Trade Ties) আরও জোরদার করতে চাইছে। লন্ডনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক (Think Tank) চ্যাথাম হাউস (Chatham House)–এর গবেষক চিয়েতিগজ বাজপেয়ী (Chietigj Bajpaee) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে (BBC) বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্বের কাছে বার্তা যাচ্ছে যে, ভারত বহুমুখী বিদেশনীতি (Diversified Foreign Policy) অনুসরণ করে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের (Trump Administration) খেয়ালখুশির উপর নির্ভরশীল নয়।

মাদার অব অল ডিলস’-এর দোরগোড়ায়

কিছু প্রতিবেদনে (Reports) দাবি করা হয়েছে, আগামী ২৭ জানুয়ারি (27 January) দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই (High-Level Summit) এই চুক্তির ঘোষণা হতে পারে। লেয়েন এবং ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী (Trade Minister) পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal) দু’জনেই এই চুক্তিকে আখ্যা দিয়েছেন মাদার অব অল ডিলস (Mother of All Deals) হিসেবে। প্রায় দু’দশক ধরে দীর্ঘ দর কষাকষির পর এখন আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে এই চুক্তি।

এই চুক্তি কার্যকর হলে, গত চার বছরে এটি হবে ভারতের নবম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। এর আগে ব্রিটেন (UK), ওমান (Oman), নিউজিল্যান্ড (New Zealand)–সহ একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে ভারত। ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (Economist Intelligence Unit) সিনিয়র বিশ্লেষক সুমেধা দাশগুপ্ত (Sumedha Dasgupta) বলেন, ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েনে (Geopolitical Tensions) বিশ্ব বাণিজ্য (Global Trade) অস্থির হয়ে উঠেছে। তাই ভারত ও ইইউ, দু’পক্ষই এখন নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য সঙ্গী খুঁজছে। ভারতের লক্ষ্য মার্কিন শুল্ক সমস্যা (US Tariff Issues) সামাল দেওয়া, আর ইউরোপ চায় চিনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি ভারতের দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল বাণিজ্য নীতি ভাঙার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দু’পক্ষের লাভ কোথায়?

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক (Closer Trade Ties) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি (Fourth Largest Economy) এবং দ্রুততম বৃদ্ধি পেতে থাকা প্রধান অর্থনীতি (Fastest Growing Major Economy)। চলতি বছরই ভারতের জিডিপি (GDP) ৪ ট্রিলিয়ন ডলার (4 Trillion Dollars) ছাড়িয়ে জাপানকে (Japan) পিছনে ফেলবে বলে ধারণা।

দাভোসে (Davos) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (World Economic Forum)–এ দেওয়া ভাষণে ফন ডার লেয়েন বলেন, ভারত ও ইইউ একসঙ্গে কাজ করলে ২০০ কোটি মানুষের (Two Billion People) একটি মুক্ত বাজার (Free Market) তৈরি হবে, যা বিশ্ব জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রতিনিধিত্ব করবে। অন্যদিকে, ভারতের জন্যও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার (Largest Trading Bloc)। এই চুক্তির মাধ্যমে পুনরায় চালু হতে পারে জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস (GSP), যার আওতায় উন্নয়নশীল দেশগুলির (Developing Countries) পণ্যে ইউরোপে আমদানি শুল্ক (Import Duty) কম বা শূন্য হয়ে থাকে।

শুল্ক কমলে কী লাভ ভারতের?

দিল্লিভিত্তিক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)–এর অজয় শ্রীবাস্তব (Ajay Srivastava) বলেন, ভারত ইউরোপে প্রায় ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি (Exports) করে এবং আমদানি (Imports) করে ৬১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। কিন্তু ২০২৩ সালে GSP সুবিধা প্রত্যাহার হওয়ায় বহু ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা কমে যায়। তাঁর মতে, এই FTA হলে ভারতীয় রফতানিকারকদের (Indian Exporters) জন্য আবার বাজার খুলবে, পোশাক (Garments), ওষুধ (Pharmaceuticals), ইস্পাত (Steel), পেট্রলিয়াম পণ্য (Petroleum Products) ও যন্ত্রাংশ (Machinery)–এর উপর শুল্ক (Tariffs) কমবে। পাশাপাশি মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির (Higher US Tariffs) ধাক্কাও সামাল দিতে পারবে ভারতীয় সংস্থাগুলি (Indian Firms)

কোন ক্ষেত্রগুলি ছাড় পাবে না?

তবে ভারত কৃষি (Agriculture) ও দুগ্ধজাত পণ্য (Dairy)–র মতো অভ্যন্তরীণ বা দেশীয় ক্ষেত্রগুলিকে এই চুক্তির বাইরে রাখতে চাইছে। অন্যদিকে গাড়ি (Automobiles), মদ (Wine) ও স্পিরিটের (Spirits) মতো ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে শুল্ক কমানো হতে পারে— যেমনটা ব্রিটেনের (UK) সঙ্গে চুক্তিতে করা হয়েছিল। বাজপেয়ীর কথায়, ভারত সাধারণত সংবেদনশীল বিষয়গুলি পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেয়। ফলে এই চুক্তির ক্ষেত্রে প্রতীকী গুরুত্ব অর্থনৈতিক দিকের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।


```