পরীক্ষার সময় প্রথমে একটি বুস্টার দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রয়োজনীয় উচ্চ গতি দেওয়া হয়। তারপর সেই গতিতে পৌঁছাতেই র্যামজেট ইঞ্জিন চালু হয়ে যায়।

সফল র্যামজেট-ট্রায়াল
শেষ আপডেট: 4 February 2026 08:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য পেল ভারত। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও (Defence Research & Development Organisation) সফলভাবে পরীক্ষা করেছে সলিড ফুয়েল ডাকটেড র্যামজেট (SFDR) প্রযুক্তি- যা বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশের কাছেই রয়েছে (Ramjet technology)। ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ওড়িশার চাঁদপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে এই উৎক্ষেপণ হয়। এই সাফল্যের ফলে ভারত পরবর্তী প্রজন্মের দ্রুতগামী, দূরত্ব থেকেই আকাশ থেকে আকাশে ছোড়া যাবে এমন উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল (India enters an elite league of nations )।
র্যামজেট প্রযুক্তি কী?
র্যামজেট এক ধরনের ইঞ্জিন (Ramjet technology), যা সামনের দিক থেকে প্রবেশ করা বাতাসকে ব্যবহার করে শক্তি তৈরি করে। এতে বিমানের ইঞ্জিনের মতো জটিল যন্ত্রাংশ থাকে না। সলিড ফুয়েল ডাকটেড র্যামজেট ইঞ্জিনে বায়ু প্রবাহের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিতভাবে কঠিন জ্বালানি পোড়ে, ফলে ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘক্ষণ ধরে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোতে পারে।
এই প্রযুক্তির কারণে ক্ষেপণাস্ত্র শুধু দ্রুত নয়, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শক্তি ধরে রাখে, যা শত্রুর বিমানকে আঘাত করতে আরও কার্যকর করে তোলে (Indian fighter jets)।
কীভাবে পরীক্ষা করল DRDO?
পরীক্ষার সময় প্রথমে একটি বুস্টার দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রয়োজনীয় উচ্চ গতি দেওয়া হয়। তারপর সেই গতিতে পৌঁছাতেই র্যামজেট ইঞ্জিন চালু হয়ে যায়। DRDO জানিয়েছে, পরীক্ষার সময়,
সবকিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছে।
বঙ্গোপসাগরের (Bay of Bengal) উপকূলে একাধিক যন্ত্রে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ, গতি এবং ইঞ্জিনের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। সংগ্রহ করা সব তথ্যই পরীক্ষার সাফল্য নিশ্চিত করেছে। DRDO-র বিভিন্ন ল্যাবরেটরির শীর্ষ বিজ্ঞানীরা এই উৎক্ষেপণ সরাসরি নজরদারি করেন।
ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সাফল্য?
SFDR প্রযুক্তি ভারতীয় বায়ুসেনাকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করবে। কারণ—
বিশ্বে মাত্র কয়েকটি দেশই র্যামজেট প্রযুক্তি (Ramjet technology) তৈরি করতে পেরেছে। এই প্রযুক্তি আয়ত্ত করা অত্যন্ত কঠিন, কারণ অতিদ্রুত গতিতে স্থিরভাবে জ্বালানি পোড়ানো প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং। ভারতের জন্য এই সাফল্য মানে স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় অগ্রগতি। বিদেশি প্রযুক্তিনির্ভরতা কমবে, ভবিষ্যতের অধিক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথ খুলবে।
সব মিলিয়ে, DRDO-র এই অর্জন প্রমাণ করল, ভারত উন্নত প্রতিরক্ষা গবেষণায় বিশ্বমানের প্রযুক্তি তৈরি করতে সক্ষম, এবং আগামী দিনে আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।