শত শত মৌমাছির হুল ফুটলেও শেষ শিশুটিকে নিরাপদে না রাখা পর্যন্ত এক পা পিছিয়ে আসেননি তিনি। এরপরেই অচেতন হয়ে পড়ে যান কাঞ্চনবাই।

শেষ আপডেট: 3 February 2026 23:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) নীমুচ জেলার রানপুর গ্রামে এক মর্মস্পর্শী সাহসিকতার কাহিনী রেখে গেলেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রাঁধুনি কাঞ্চনবাই মেঘওয়াল। মৌমাছির হঠাৎ আক্রমণ থেকে প্রায় ২০ জন শিশুকে বাঁচালেও নিজেকে রক্ষা করতে পারলেন না (Neemuch woman saves children dies)। ঝাঁক ঝাঁক মৌমাছির কামড়ে মৃত্যু হল তাঁর।
ঘটনাটি ঘটেছে মাদাওয়াদা পঞ্চায়েতের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। সেদিন কেন্দ্রের চত্বরে শিশুরা খেলছিল। আচমকাই বিশাল এক মৌমাছির ঝাঁক নেমে আসে তাদের ওপর। পরিস্থিতি বুঝে এক মুহূর্ত দেরি করেননি কাঞ্চনবাই। নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে আশপাশে পড়ে থাকা ত্রিপল ও মাদুর তুলে নেন। একে একে শিশুদের জড়িয়ে নিজের শরীর দিয়ে ঢেকে দ্রুত তাদের কেন্দ্রের ভিতরে নিয়ে যান (Anganwadi cook bee attack bravery)।
মৌমাছির ঝাঁক তখন তাঁর দিকেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। শত শত মৌমাছির হুল ফুটলেও শেষ শিশুটিকে নিরাপদে না রাখা পর্যন্ত এক পা পিছিয়ে আসেননি তিনি। এরপরেই অচেতন হয়ে পড়ে যান কাঞ্চনবাই। গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন। কনস্টেবল কালুনাথ ও পাইলট রাজেশ রাঠোর তাঁকে দ্রুত কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর শরীরে অসংখ্য মৌমাছির হুলের দাগ যেন চরম সাহসিকতার নীরব সাক্ষী।
কাঞ্চনবাই শুধু অঙ্গনওয়াড়ির রাঁধুনি ছিলেন না। তিনি গ্রামের শিশুদের জন্য দুপুরের রান্না যেমন করতেন, পাশাপাশি ‘জয় মাতা দি’ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সভাপতি ছিলেন, আর ছিলেন নিজের পরিবারের একমাত্র ভরসা। তাঁর স্বামী শিবলাল পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের পর যখন তাঁর দেহ রানপুর গ্রামে পৌঁছয়, গোটা গ্রাম স্তব্ধ, তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এগিয়ে আসেন প্রতিটি মানুষ। এমন সাহসের সামনে তাঁরা ভাষা হারিয়েছেন তখন।
তবে আতঙ্ক এখনও কাটেনি গ্রামবাসীদের। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পাশের গাছে এখনও ঝুলছে বিশাল মৌচাক। সেই গাছের কাছেই রয়েছে গ্রামের একমাত্র হ্যান্ডপাম্প। ফলে জল আনতেও ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা। অবিলম্বে মৌচাক সরানো এবং কাঞ্চনবাইয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা।