নবীন ভোটারদের ভোটদানে আগ্রহ বাড়াতে আরও এক অভিনব সিদ্ধান্ত হল কফি হাউজে ছাড়। কেরলের প্রায় সব শহরেই ইন্ডিয়ান কফি হাউস আছে। এছাড়া স্টারবাক এবং কাফে কফি ডে'র মতো নামজাদা কফি হাউসে নবীন ভোটারেরা কফিতে ছাড় পাবেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 April 2026 10:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলে (Kerala) প্রথমবার তালিকায় নাম তোলা এবং নবীন ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহ দিতে অভিনব গুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য নির্বাচন দপ্তর। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার রথন ইউ কেলকার জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) নির্দেশে তিনটি বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কেরলে বিধানসভা নির্বাচনের (Kerala Assembly Election) জন্য ভোট নেওয়া হবে আগামী ৯ এপ্রিল।
কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার যারা তালিকায় নাম তুলেছে এবং এবং ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সি ভোটারদের ভোটদানের পর বুথে টিফিন দেওয়া হবে। এক টাকার বিনিময়ে টিফিনে মিলবে চালের আটার রুটি এবং হালুয়া।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (CEC Gyanesh Kumar) জানিয়েছেন, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সি প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটার আছেন কেরলে। অতীতে নির্বাচনগুলিতে দেখা গিয়েছে এই বয়সি ভোটাররা বুথে কম আসছেন।
নির্বাচন কমিশন (ECI) এবার সর্বজনীন ভোটাধিকারকে বাস্তবায়ন করতে নবীন ভোটারদের (New Voters) উৎসাহ দানের অভিনব কর্মসূচি নিয়েছে। সম্ভাব্য নবীন ভোটার কোন বুথে কতজন আসতে পারেন তার একটা আনুমানিক হিসাব ধরে টিফিনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাত্র ১ টাকা দিলেই মিলবে এই ব্রেকফাস্ট।
তবে এখানেই শেষ নয়। নির্বাচন কমিশন ওলা এবং উবের এই দুটি অনলাইন ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি করেছে। নবীন ভোটারদের বুথে আসা যাওয়ায় জন্য দু কিলোমিটারের জন্য কোনও ভাড়া মেটাতে হবে না। বাড়তি দূরত্বের জন্য ভাড়া দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে অন্যতম শর্ত হল বুথের নাম এবং নম্বর এবং ভোটার কার্ডের নম্বর দিয়ে রাইড বুক করতে হবে। বুথের পাশে নির্ধারিত জায়গায় সেই গাড়ি এসে পৌঁছলে ভোট কর্মীরা নির্ধারিত কাগজে সই করে দেবেন যাতে চালকেরা জেলা নির্বাচন দপ্তর থেকে ভাড়ার টাকা পেয়ে যান।
নবীন ভোটারদের ভোটদানে আগ্রহ বাড়াতে আরও এক অভিনব সিদ্ধান্ত হল কফি হাউজে ছাড়। কেরলের প্রায় সব শহরেই ইন্ডিয়ান কফি হাউস আছে। এছাড়া স্টারবাক এবং কাফে কফি ডে'র মতো নামজাদা কফি হাউসে নবীন ভোটারেরা কফিতে ছাড় পাবেন। এজন্য আঙুলে ভোটের কালি এবং বুথ থেকে ভোটার স্লিপে দেওয়া বিশেষ স্ট্যাম্প দেখাতে হবে।
কমিশনের এই সব উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিবাদ দেখা দিয়েছে। বিজেপির দাবি এর ফলে দীর্ঘদিন ভোট থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা নবীন সমাজ বুথে যাবে এবং তারা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেবে। একই আশা করছে কংগ্রেস। অন্যদিকে সিপিএম সহ বাম জোটের বক্তব্য ভোটদানে এই ধরনের উপঢৌকন দেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক। নির্বাচন কমিশনের উচিত বিষয়টি প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা। লাগাতার প্রচারের ফলেই অতীতের তুলনায় ভোট দানের হার দেশের সব রাজ্যেই বেড়েছে। শুধুমাত্র কেরলে কেন নবীন ভোটারদের বুথে আনতে এমন অভিনব পদ্ধতি অনুসরণ করছে কমিশনের তরফ থেকে তার ব্যাখ্যা মিলছে না।
প্রশ্ন হল কেরলে নবীন ভোটারদের মধ্যে ভোটদানের হার কম কেন? এই প্রশ্নের জবাব অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেকেই মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপে আলোতে তেমন কোন পরিবর্তন হবে না। তাদের বক্তব্য কেরলের নবীন সমাজের বড় অংশই আরব দুনিয়ায় বসবাস করে। তারা বিপুল টাকা খরচা করে ভোট দিতে দেশে আসে না। পাসপোর্ট ইত্যাদির জন্য তারা অবশ্য ভোটার তালিকায় নাম তুলতে যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে থাকে। বিপুল সংখ্যায় বিদেশে থাকার ফলে এই নবীন ভোটাররা বছরের পর বছর বিধানসভা ও লোকসভায় ভোট দিচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট অনেকেরই বক্তব্য আসল সমস্যাটি অনুধাবন না করে কমিশন কতগুলি চটকদার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে ভারতে অতীতে পুনরাজ্যে নবীন ভোটারদের বুথে টান টেনে আনতে এমন অভিনব সুবিধা দেওয়ার নজির নেই। বরং প্রবীণ ভোটারদের বাড়ি থেকে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে আনা নেওয়ার ব্যবস্থা বেশ কিছু রাজ্যে করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম। বিশেষ করে সল্টলেক নিউ টাউন এবং কলকাতার কিছু এলাকায় যেখানে বহু প্রবীণ মানুষ একা বসবাস করেন তাদের যেমন বাড়িতে গিয়ে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা আছে তেমনি সশরীরে বুথে এসে ভোট দিতে চাইলে গাড়ি সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সে ক্ষেত্রে আগাম তা রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হয়।