মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জমির নিয়ন্ত্রণই থেকে যাবে বিজয়ের আসল মাপকাঠি।

উপেন্দ্র দ্বিবেদী
শেষ আপডেট: 9 September 2025 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধক্ষেত্রে স্থলসেনার (Indian Army) অপরিহার্যতার ওপর ফের জোর দিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Army Chief Gen Upendra Dwivedi)। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জমির নিয়ন্ত্রণই থেকে যাবে বিজয়ের আসল মাপকাঠি।
জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, ‘‘আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) শীর্ষ বৈঠকে ইউক্রেন প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছিল কতটা জমি হাতবদল হবে তা নিয়ে।’’ তাঁর মন্তব্য, ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন, ‘‘আমাদের দেড়-সীমান্তের হুমকি রয়েছে। তাই ভারতের প্রেক্ষাপটে জমিই বিজয়ের মুদ্রা হয়ে থাকবে।’’
প্রসঙ্গত, মাত্র দু-সপ্তাহ আগে বিমানবাহিনীর প্রধান এপি সিং জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ফের প্রমাণ করেছে আকাশসেনার গুরুত্ব। তার পরেই সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
জেনারেল দ্বিবেদী এদিন আরও বলেন, যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। ভারতীয় সেনাও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। নতুন প্রযুক্তি, উদীয়মান অস্ত্র এবং আধুনিক রণকৌশল, সবকিছুই ধাপে ধাপে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বস্তুত, গত শুক্রবার দিল্লিতে একটি বই উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, ‘‘আপনারা হয়তো ভাবেন ১০ মে যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু না। দীর্ঘ সময় চলেছিল সেই যুদ্ধ। অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ছিল। তা ছাড়া সব কিছু এখানে বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’’
তার পরেই ভারতের সেনাপ্রধান জানান, সিঁদুর অভিযানের প্রভাব সীমান্তে কতটা পড়েছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। কারণ, সীমান্তে অনুপ্রবেশ এখনও বন্ধ হয়নি। পাকিস্তানের সন্ত্রাসে মদত দেওয়াও চলছে। তাঁর কথায়, ‘‘নিয়ন্ত্রণ রেখার পরিস্থিতির উপরে সিঁদুর অভিযানের প্রভাব কতটা পড়েছে, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করা যাবে না। পাকিস্তানের মদতে সন্ত্রাস কি বন্ধ হয়েছে? আমি মনে করি না। কারণ, নিয়ন্ত্রণরেখায় এখনও অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছে। আমরা সকলে জানি, কত জন জঙ্গি নিহত হয়েছে, কত জন পালিয়ে গিয়েছে।’’
সিঁদুর অভিযানের সময় ভারতের বাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয়েরও প্রশংসা করেন দ্বিবেদী। তিনি জানান, প্রত্যেক বাহিনীর আধিকারিকেরা নিজেদের নির্দেশ নিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে অবহিত ছিলেন। সেই মতো পদক্ষেপ করেছেন তাঁরা। তিনি বায়ু, নৌ এবং স্থলসেনা বাহিনীকে এক কমান্ডারের অধীনে (থিয়েটারাইজেশন) নিয়ে আসার বিষয়েও সওয়াল করেন।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। ওই ঘটনায় পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীর জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছিল। এর পরেই ৭ মে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করতে সিঁদুর অভিযান শুরু করে ভারত। পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালানোর চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ করে ভারতীয় সেনা।