৪৫ বছরে বিজেপির সভাপতি হয়েছেন ১২ জন। একই সময়ে কংগ্রেসে কতজন সভাপতি, তাঁদের মধ্যে কতজন গান্ধী পরিবারের, আর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন কে?

বিজেপি ও কংগ্রেস সভাপতিরা
শেষ আপডেট: 15 December 2025 10:35
পার্টির জন্মের ৪৫ তম বছরে ৪৫ বছর বয়সি এক নেতাকে সর্বভারতীয় সভাপতি করতে চলেছে বিজেপি। তিনি বিহারে সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য নিতিন নবীন। বিহারের চারবারের বিধায়ক তিনি। জাতীয় জাতীয় স্তর দূরে থাক, বিহারেও প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে তাঁকে দেখা যায়নি।
দু'বছর আগে বর্তমান সভাপতি জেপি নাড্ডার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পদ্ম পার্টির হাল কে ধরবেন তা নিয়ে তুমুল জল্পনা চলছিল। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দলের ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকেরা যে সব নাম পরবর্তী সভাপতি হিসেবে আলোচনায় আছে বলে এতদিন জানিয়েছেন তাতে বিহারের এই নেতার নাম ছিল না। আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁকে নিয়ম মেনে কার্যনির্বাহী সভাপতি করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, আরএসএসের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারের এই নেতাকে পরবর্তী রাষ্ট্রীয় অধ্যক্ষ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে অতীতে লালকৃষ্ণ আডবানি বা পরবর্তীকালে অমিত শাহের মত লম্বা সময় সভাপতি রাখার অঙ্ক বিবেচনায় রেখে এই নবীন নেতাকে বেছে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। আডবানি তিন দফায় বিজেপি সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ থেকে দু দফায় সভাপতি ছিলেন অমিত শাহ।
১৯৮০ সালে বিজেপির জন্মকালে সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ি। ক্রমে তিনি সংগঠন থেকে সংসদীয় রাজনীতিতে বেশি সময় দিতে শুরু করেন। সেটাই ছিল পার্টি এবং সঙ্ঘের কৌশল। সেই থেকে ১২ জন বিজেপির সভাপতি হয়েছেন।
অন্যদিকে, ১৯৮০ পরবর্তী সময়ে বিগত ৪৫ বছরে কংগ্রেসের সভাপতি পদে দীর্ঘ সময় ছিলেন গান্ধী পরিবারের সদস্যরা। ১৯৮৪ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর একই সঙ্গে দলের সভাপতি হন রাজীব গান্ধী। তিনি প্রয়াত হওয়ার পর গান্ধী পরিবারের বাইরে কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছেন তিনজন। তাঁরা হলেন, পিভি নরসিংহ রাও, সীতারাম কেশরী এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
১৯৯১ এ নরসিংহ রাও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকেই দলের সভাপতি করা হয়। কংগ্রেসের এটাই দীর্ঘদিনের রীতি। তবে এমন কোন নিয়মের কথা দলীয় সংগঠনে লেখা নেই।
১৯৯৬-এ লোকসভা ভোটের আগেই রাওকে সরিয়ে সভাপতি করা হয় বিহারের নেতা সীতারাম কেশরীকে। দীর্ঘদিন কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা সীতারাম '৯৬ এর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাওকেই টিকিট দেননি। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা আটকাতে না পারায় প্রধানমন্ত্রী রাও সভাপতির কর্তৃত্ব হারিয়েছিলেন।
তবে পরিণতি ভাল হয়নি সীতারামেরও। কংগ্রেসের গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ নেতারা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছিলেন সনিয়া গান্ধীকে পার্টির মাথায় বসাতে। ১৯৯৮-এর গোড়ায় একপ্রকার অভুত্থান ঘটিয়ে কংগ্রেসের সভাপতি করা হয় সনিয়াকে। দায়িত্ব গ্রহণের কোন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সভাপতি চেয়ারে বসে ছিলেন সনিয়া। অপমানিত প্রবীণ সীতারাম বিনা বাক্য ব্যয়ে আইসিসি সদরদপ্তর ছেড়ে যান সেদিন।
১৯৯৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত টানা সভাপতি ছিলেন সনিয়া। ২০১৭-তে সভাপতি হন রাহুল গান্ধী। দু বছরের মাথায় লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের দায় নিয়ে সভাপতি পদ ছেড়ে দেন রাহুল। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব ফের সনিয়াকে কার্যনির্বাহী সভাপতি করে দল চালাচ্ছিলেন। ২০২২-এ সনিয়া সরে দাঁড়ান। নির্বাচিত সভাপতি এখন মল্লিকার্জুন খাড়্গে। ফলে কংগ্রেসের ইতিহাসে সনিয়া গান্ধীই দীর্ঘ সময় দলের সভাপতি ছিলেন।
এর আগে নেহেরু-গান্ধী পরিবারের দুই সদস্য কংগ্রেস সভাপতি দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৫১ থেকে ৫৪ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি দলের সভাপতি দায়িত্বে ছিলেন নেহেরু। দু দফায় কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন ইন্দিরা। প্রথমে ১৯৫৯, পরে ১৯৭৮ থেকে '৮৩ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন নেহেরু কন্যা। ইন্দিরার অকাল মৃত্যুর পর সভাপতি হন রাজীব। তিনি ওই পদে ছিলেন ১৯৮৫ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত। '৯১-এ লোকসভা নির্বাচনের সময় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা রাজীব গান্ধী এলটিটিই জঙ্গিদের হাতে নিহত হওয়ার পর কংগ্রেসের একাংশ সনিয়া গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী এবং দলের সভাপতি করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। কিন্তু বিজেপি সনিয়ার বিরুদ্ধে লাগাতার বিদেশিনী ইস্যুতে প্রচারের কারণে রাজীব পত্নী তখন দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। তারই সম্মতিতে প্রধানমন্ত্রী হন নরসিংহ রাও।
অন্যদিকে জন্মের পর বিগত ৪৫ বছরে বাজপেয়ি, আডবানি, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা ছাড়াও বিজেপির সভাপতি হয়েছেন মুরলী মনোহর যোশি, কুশাভাও ঠাকরে, বঙ্গারু লক্ষ্মণ, জনা কৃষ্ণমূর্তি, ভেঙ্কাইয়া নাইডু, রাজনাথ সিং এবং নীতিন গডকড়ি।