২৬ বছর বয়সি ওই চিকিৎসক সাতারা জেলার ফলটন সাব-ডিভিশন হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। হাসপাতালের ঘর থেকেই বৃহস্পতিবার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 25 October 2025 09:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক পুলিশ অফিসারের দ্বারা একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ তুলে আত্মঘাতী হয়েছেন মহারাষ্ট্রের এক তরুণী চিকিৎসক (In 4-Page Suicide Note, Doctor Who Was Raped)। মৃত্যুর আগে বাঁ হাতের তালুতে লিখে গিয়েছেন অভিযুক্তের নাম—আর সেই লেখাই এখন তদন্তের মূল সূত্র।
সূত্রের খবর, শুধু হাতে নয়, চার পাতার একটি ‘সুইসাইড নোট’ও রেখে গিয়েছেন তিনি, যাতে উঠে এসেছে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ। দাবি, তাতে এক সাংসদের নামও রয়েছে, যিনি ফোন করে তাঁকে অনৈতিক কাজে চাপ দিয়েছিলেন (Accused MP Of Pressuring Her)।
২৬ বছর বয়সি ওই চিকিৎসক সাতারা জেলার ফলটন সাব-ডিভিশন হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। হাসপাতালের ঘর থেকেই বৃহস্পতিবার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হাতে লেখা তাঁর শেষ বার্তা—“ও আমার মৃত্যুর কারণ। ও আমাকে চার বার ধর্ষণ করেছে। পাঁচ মাস ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে।” নাম হিসেবে লেখা রয়েছে সাব-ইনস্পেক্টর গোপাল বাদনের। আরেকটি নাম, তাঁর বাড়িওয়ালা প্রশান্ত ব্যাংকরের—যার বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ করেছেন তরুণী।
তবে এখানেই শেষ নয়। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, চার পাতার সুইসাইড নোটে আরও বিস্ফোরক তথ্য রয়েছে। তাতে লেখা—তাঁকে নিয়মিত চাপ দেওয়া হত ভুয়ো মেডিক্যাল রিপোর্ট তৈরির জন্য। পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশ আসত, অভিযুক্তদের শারীরিক পরীক্ষা না করেই ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ দিতে হবে। সেই নির্দেশ অমান্য করলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হত, অপমান করা হত।
একটি ঘটনার উল্লেখ করে তরুণী লিখেছেন, তিনি এক ‘নির্দিষ্ট রিপোর্ট’ দিতে রাজি হননি। কিছুক্ষণ পর এক সাংসদের দুই সহকারী হাসপাতালে এসে তাঁকে ফোন ধরিয়ে দেন। ফোনের ওপারে ছিলেন সেই সাংসদ—পরোক্ষভাবে হুমকি দেন তিনি। যদিও সাংসদের নাম প্রকাশ্যে আসেনি।
চিকিৎসকের পরিবারের দাবি, তিনি একাধিকবার পুলিশ সুপার ও ডিএসপি-কে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ হয়নি। তাঁর এক আত্মীয় জানিয়েছেন, “তিনি বলেছিলেন, কিছু হলে কে দায় নেবে? নিরাপত্তা নেই, অভিযোগ জানালেও কেউ শোনে না।”
বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার গোপাল বাদনে ও বাড়িওয়ালা প্রশান্ত ব্যাংকরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের হয়েছে। বাদনেকে বরখাস্ত করেছে পুলিশ। তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন কল্যাণ রেঞ্জের আইজি সুনীল ফুলারী।
এ ঘটনায় মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, “রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়? অভিযোগ জানিয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন?” বিজেপির তরফে অবশ্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে—অভিযুক্তদের কোনও রকম রেহাই দেওয়া হবে না, “ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”