“যদি আপনি কোনও পাকিস্তানিকে জিজ্ঞেস করেন, হেরেছ নাকি জিতেছ, সে বলবে—আমার সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল হয়ে গেছেন, মানে আমরা নিশ্চয়ই জিতেছি,” মন্তব্য সেনাপ্রধানের।

সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
শেষ আপডেট: 10 August 2025 08:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'Victory is in the mind— জয় আসলে মানসিকতায়, এভাবেই পাকিস্তানের প্রচারযুদ্ধের কৌশল ব্যাখ্যা করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Army Chief)।
আইআইটি মাদ্রাজে এক সভায় তিনি বলেন, অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) চলাকালীন পাকিস্তান তাদের নাগরিকদের এমনভাবে বোঝাতে পেরেছিল যে তারা নাকি যুদ্ধে জয়ী। “যদি আপনি কোনও পাকিস্তানিকে (Pakistani) জিজ্ঞেস করেন, হেরেছ নাকি জিতেছ, সে বলবে—আমার সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল হয়ে গেছেন, মানে আমরা নিশ্চয়ই জিতেছি,” মন্তব্য সেনাপ্রধানের।
অপারেশন সিঁদুরে ভারতও কৌশল নিয়েছিল নিজের মতো, সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বার্তা পৌঁছে দেওয়া। “আমাদের প্রথম বার্তা ছিল—Justice Done। এই বার্তা বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছেছিল,” জানান দ্বিবেদী। দুই মহিলা অফিসারের নেতৃত্বে সেনা ও বায়ুসেনার যৌথ সাংবাদিক বৈঠক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও এক জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারের তৈরি লোগো—সবই ছিল পরিকল্পিত কৌশলগত প্রচারের অংশ।
তিনি জানান, এই গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক অভিযানে ছিল নয়া রণকৌশল। দাবার খেলায় যেমন প্রতিপক্ষের চাল বোঝা যায় না, তেমনই ছিল সিঁদুর অভিযান।
“এটি ছিল গ্রে জোন অপারেশন—সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, কিন্তু যুদ্ধের ঠিক আগে অবস্থান। কোথাও চেকমেট দিয়েছি, কোথাও ঝুঁকি নিয়ে শত্রুকে শেষ করেছি,” বলেন সেনাপ্রধান।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়েও প্রশংসা করেন তিনি। পহেলগাম গণহত্যার পরদিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং তিন বাহিনীর প্রধানদের ডেকে বলেন, “Enough is enough”। দ্বিবেদী বলেন, “আমাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার। এই আস্থা ও রাজনৈতিক স্পষ্টতা মনোবল বাড়িয়ে দেয়”।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ জঙ্গিরা পর্যটকদের উপর হামলা চালিয়ে ২৬ জনকে হত্যা করে। তার প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ন’টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে একশোরও বেশি জঙ্গিকে খতম করে। গত মাসে অপারেশন মহাদেব-এ ধরা পড়ে তিন অভিযুক্ত জঙ্গি।