একটানা ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস এবং মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত হিমাচলের একাংশ। মান্ডি জেলায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের, নিখোঁজ ৩১।

মাণ্ডিতে কঙ্গনা
শেষ আপডেট: 7 July 2025 08:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কঙ্গনা রানাওয়াত মানেই বিতর্ক। এবার নিজের লোকসভা এলাকায় গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন অভিনেত্রী। রবিবার বানভাসি মান্ডি জেলা পরিদর্শনে যান তিনি। গিয়ে সবদিক খতিয়ে দেখে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। ত্রাণ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে জানিয়ে দেন, তিনি মন্ত্রী নন, তাইর কোনও ত্রাণ তহবিল তাঁর হাতে নেই। তিনি শুধু এলাকার কথা সাংসাদে গিয়ে বলতে পারেন মাত্র। শেষে বলেন, 'তবুও দেখব যতোটা অর্থসাহায্য করা যায়।'
একটানা ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস এবং মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত হিমাচলের একাংশ। মান্ডি জেলায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের, নিখোঁজ ৩১। ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০-টিরও বেশি বাড়ি, ১০৬টি গবাদি পশুর ঘর, ৩১টি গাড়ি, ১৪টি সেতু ও বহু রাস্তা। প্রায় ২০০টি রাস্তা বন্ধ, ২৭৮টি জল সরবরাহ প্রকল্প ও ২৩৬টি ট্রান্সফর্মার বিকল, জানাচ্ছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কেন্দ্র।
এই পরিস্থিতি এলাকা পরিদর্শনে যান কঙ্গনা। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে না পারায় কটাক্ষ করেন সেখানকার কংগ্রেস সরকারকে। তাঁর অভিযোগ, 'রাজ্যের কংগ্রেস সরকার দুর্গতদের পর্যাপ্ত সাহায্য করেনি। যাঁরা দায়ী, তাঁরা মুখ লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন। দুর্নীতি চলছে। কেন্দ্র থেকে যে তহবিল আসবে, তা আমার বা জয়রাম ঠাকুরের হাতে নয়, সরকারের হাতেই যাবে।'
এরপরই তিনি বলে বসেন, 'আমার হাত বাধা। সীমিত পরিসরেই কাজ করতে পারি। রাজ্য বা পঞ্চায়েত স্তরে আমার কোনও ক্ষমতা নেই।' শুধু দুর্নীতির অভিযোগেই থেমে থাকেননি তিনি। কড়া ভাষায় বলেন, 'এই সরকার রাজ্য চালাতে পারছে না। প্রতি বর্ষাতেই হিমাচলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হচ্ছে। আমি নিশ্চিত, আগামী ২০ বছরেও কংগ্রেস আর ক্ষমতায় ফিরবে না।'
এদিনের পরিদর্শনের আগে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছিল, মান্ডির মানুষ যখন অসহায়, তাঁদের পাশে নেই কেন কঙ্গনা? দলের নেতা ও বিরোধী দলনেতা জয়রাম ঠাকুরও মন্তব্য করেছিলেন, 'আমরা মানুষের জন্যই বেঁচে আছি। যাঁরা নেই, তাঁদের নিয়ে কিছু বলার নেই।'
জবাবে কঙ্গনা বলেন, 'আমি সাধারণ মানুষের নাগালে আছি। স্থানীয় স্তরে আমরা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে থাকলেও তিনি এখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত সেনা পাঠিয়েছে। আমার দায়িত্ব, এখানে কী ঘটছে তা কেন্দ্রকে জানানো এবং তহবিল আনার জন্য চেষ্টা করা।'
নিজের বক্তব্যের যতই সাফাই দিক কঙ্গনা, এনিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। কেউ বলছেন, কেবল ফোটোসেশন নয়, মানুষের পাশে থাকা সাংসদের দায়িত্ব, কেউ আবার বলছেন, ত্রাণ না থাকলে তা পাওয়ার পথ তো তিনিই খুঁজে বের করবেন। ত্রাণ ও পুনর্বাসনের চেয়ে সাংসদ হিসেবে নিজের সীমাবদ্ধতা জাহির করাটাই কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল কঙ্গনার কাছে এমন পরিস্থিতিতে? উঠছে প্রশ্ন।