
অভিযুক্ত বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা
শেষ আপডেট: 21 March 2025 09:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi High Court) এক বিচারপতির বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। বিচারপতির সরকারি বাংলোর একটি ঘরে শুধুই নগদ টাকার সন্ধান মিলেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, নেতা-মন্ত্রীদের বাড়িতে ইডি (ED), সিবিআই (CBI) হানা দিলে যেমন ঘর ভর্তি নোটের বান্ডিল মেলে বিচারপতির বাড়িতেও তেমনই বিপুল অর্থ মিলেছে। যার নজির প্রায় নেই বললেই চলে।
ওই বিচারপতির নাম যশবন্ত ভার্মা (Yashwant Varma)। তাঁর দিল্লির বাংলোয় মঙ্গলবার সকালে আগুন লাগে। দমকল (fire brigade) আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভিতরে ঢুকে অনুসন্ধানে নামে কোথাও আগুনের অস্তিত্ব আছে কি না। দেখা যায়, বাড়ির ভিতরের একটি ঘর বন্ধ। সেই ঘরেও আগুন লেগেছে কিনা বুঝতে সেটি ভাঙা হয়। দেখা যায়, ঘরের মেঝে থেকে সিলিং পর্যন্ত থরে থরে টাকার বান্ডিল সাজানো।
পুলিশ সুত্রের খবর, বিচারপতি ভার্মা ও তাঁর পরিবারের কেউ বাংলোয় ছিলেন না। বিচারপতি ছুটি নিয়ে সপরিবারে প্রয়াগরাজের বাড়িতে গিয়েছেন। ২০২১ পর্যন্ত তিনি এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি ছিলেন।
হাই কোর্টের বিচারপতির বাড়িতে বিপুল অর্থ মেলার বিষয়টি পুলিশ দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির নজরে আনে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেই খবর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার (Chief Justice of India Sanjib Khanna)) কানে পৌঁছে দেন। প্রধান বিচারপতি কালক্ষেপ না করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের কলেজিয়ামের (Supreme court collegium) বৈঠক ডাকেন। কলেজিয়াম হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ, বদলি এবং চাকরি জীবনের সব কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।
কলেজিয়াম তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিচারপতি ভার্মাকে এলাহাবাদ হাই কোর্টে (Allahabad High court) বদলির আদেশ দেয়। কিন্তু বিচার বিভাগের লোকজন বদলিকে সাজা বলে মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, বিচারপতি ভার্মাকে পদত্যাগ করতে বলা হোক। তিনি রাজি না হলে তাঁর বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কেস রুজু করে সাসপেন্ড করা হোক। তারপর সংসদে ইম্পিচ করে তাঁকে চাকরি থেকে সরানো হোক। সংশ্লিষ্ট সব মহল নিশ্চিত, বিচারপতি ভার্মা ঘুষের টাকা বাড়িতে রেখেছেন। দাবি উঠেছে, তার দেওয়া রায়গুলি পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ বেঞ্চ গঠন করুক। সিবিআই তদন্তেরও দাবি উঠেছে।