সিনেমার গল্প মনে হলেও বাস্তবের এই ঘটনা কার্যত নাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের। কল্পনা করা যায়নি, কোনও এক ব্যক্তি এইভাবে দিনে-দুপুরে একসঙ্গে এতজন শিশুকে পণবন্দি করতে পারে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 October 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় তিন ঘণ্টা টানটান উত্তেজনার পর মুম্বইয়ের (Mumbai) পাওয়াইয়ে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় ১৭ জন শিশুকে। ওয়েব সিরিজের অডিশনের নাম করে স্টুডিওয় ডেকে রাখার পর তাঁদের বন্দি (Hostage) করে রাখেন ৫০ বছরের রোহিত আর্য। শেষমেশ পুলিশি অভিযানে (Police Operation) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ওই ব্যক্তি।
সিনেমার গল্প মনে হলেও বাস্তবের এই ঘটনা কার্যত নাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের। কল্পনা করা যায়নি, কোনও এক ব্যক্তি এইভাবে দিনে-দুপুরে একসঙ্গে এতজন শিশুকে পণবন্দি (Hostage) করতে পারে। কিন্তু পুলিশ যথাসময়ে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করেছে এবং শুধু শিশুদের উদ্ধারই করেনি, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খতমও করেছে।
কোন পথে হল এই অপারেশন
দুপুর ১.৩০ — পাওয়াই থানায় ফোন আসে, মহাবীর ক্লাসিক ভবনের আরএ স্টুডিওয় কয়েকজন শিশুকে আটকে রাখা হয়েছে।
দুপুর ১.৪৫ — ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, কুইক রেসপন্স টিম, বম্ব স্কোয়াড ও দমকল। শুরু হয় আলোচনার চেষ্টা। বন্দুকধারীর নাম জানা যায় - রোহিত আর্যা (৫০)।
দুপুর ২.১৫ — রোহিত ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে দাবি করে, মহারাষ্ট্র শিক্ষা দফতরের কাছে তার দুই কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, তাই শিশুদের আটক রেখেছে।
দুপুর ২.৪৫ — কাচের জানলা দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া শিশুদের দেখা যায়। রোহিত আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে, আগুন লাগানোর হুমকি দেয়।
বিকেল ৩.১৫ — দমকলের সাহায্যে ভবনের ডাক্ট দিয়ে উঠে পুলিশের দুটি টিম ভিতরে ঢোকার পরিকল্পনা করে। একদল কাচ কেটে, অন্যদল বাথরুম ভেন্ট দিয়ে এগোয়।
বিকেল ৪.৩০ — শেষবার আলোচনায় নতি স্বীকার না করায়, পুলিশ একবার গুলি চালায়। রোহিতের বুকে লাগে।
বিকেল ৪.৪৫ — নিরাপদে উদ্ধার হয় সব শিশু। হাসপাতালে নিয়ে গেলে রোহিতকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তদন্তকারীদের কথায়, দরজা-জানালা আটকে ভিতরে নিজেকে ব্যারিকেড করে রেখেছিল রোহিত। সঙ্গে ছিল একটি এয়ারগান ও দাহ্য স্প্রে। তবে সব বাধা টপকে পুলিশ শিশুদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে তাদের হাসপাতালে পাঠিয়ে পরীক্ষা করানো হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা ছাড়া পান।
ইতিমধ্যে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর এক বিবৃতি জারি করে জানায়, রোহিত যে ২ কোটি টাকার পাওনা দাবি করেছিলেন, তার কোনও যথাযথ হিসেব বা নথি ছিল না। তাদের দাবি, রোহিত আর্যর সংস্থা ‘অপ্সরা মিডিয়া এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্ক’ বিভিন্ন স্কুল থেকে এই প্রকল্পের অংশগ্রহণ ফি নিচ্ছিল, অথচ বাজেট জমা দেওয়ার সময় কোনও স্পষ্ট নথি বা খরচের বিশদ দেননি।
দফতরের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগস্টে তাঁকে জানানো হয়, স্কুল ও ছাত্রছাত্রীদের থেকে সংগৃহীত অর্থ সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে এবং তারপর প্রকল্পের বিস্তারিত হিসেবপত্র-সহ নতুন বাজেট দাখিল করতে হবে। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ পালন করেননি, ফলে বিষয়টি সেখানেই থেমে যায়।