ধনকড়ের ইস্তফার পরই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। শীঘ্রই নির্বাচন সংক্রান্ত সূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

জগদীপ ধনকড় (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 23 July 2025 22:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই তামাম রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিয়ে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন জগদীপ ধনকড়। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে হতবাক শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে সকলেই। একদিকে বিরোধীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ কেন এমন পদক্ষেপ? অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে সংবিধানের ৬৭ (এ) ধারা অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ধনকড়। রাষ্ট্রপতির দপ্তর সেই ইস্তফা গ্রহণও করেছে মঙ্গলবার।
ইস্তফাপত্রে নিজের পদত্যাগের কারণ হিসেবে ধনকড় স্বাস্থ্য সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের ১১ অগস্ট। মাঝপথেই সরে দাঁড়ানোয় রাজনৈতিক জল্পনা বেড়েছে। সূত্রের খবর, একটি বিচারপতিকে ঘিরে বিরোধীদের তরফে যে নোটিশ আনা হয়েছিল, তার সঙ্গেও ধনকড়ের পদত্যাগের সম্ভাব্য যোগ খুঁজছেন অনেকে।
পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর কী কী সুবিধা পাবেন ধনকড়?
সংবিধান অনুযায়ী, উপরাষ্ট্রপতির পদে যদি কেউ দুই বছরের বেশি সময় থাকলে তাঁরা পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। বাজেট ২০১৮ অনুযায়ী, উপরাষ্ট্রপতির বার্ষিক বেতন ৪৮ লক্ষ টাকা। সেই হিসেবে ধনকড় মাসে প্রায় ২ লক্ষ টাকার বেশি পেনশন পেতে পারেন।
বেসরকারি এক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতিরা সাধারণত ৫০-৬০ শতাংশ বেতন পেনশন হিসেবে পান। তার সঙ্গেই থাকছে একাধিক সুযোগ-সুবিধা, টাইপ আট-এর সরকারি বাংলো, বিমান ও রেল পথে বিনামূল্যে যাতায়াত, একটি ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা, দু’জন ব্যক্তিগত সহকারী, স্ত্রী-র জন্য এক জন ব্যক্তিগত সচিব, এবং বিদ্যুৎ ও জলের বিল বহন করবে কেন্দ্র।
এছাড়াও থাকছে কিছু আসবাব, গৃহস্থালির সামগ্রী এবং দু’টি সরকারি মোবাইল ফোন।
ধনকড়ের ইস্তফার পরই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। শীঘ্রই নির্বাচন সংক্রান্ত সূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচিত ও মনোনিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত ইলেক্টোরাল কলেজের তালিকা তৈরি, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিযুক্ত করা এবং আগের নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য-সহ নির্বাচনী পটভূমি তৈরি করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি দাবি করেছেন, নতুন উপরাষ্ট্রপতি হওয়া উচিত তাঁদের রাজ্যের ওবিসি নেতা বন্দারু দত্তাত্রেয়র। তাঁর যুক্তি, দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক কথিত ভাষা তেলুগু। অথচ একের পর এক তেলুগুভাষী নেতাকে কেন্দ্রীয় পদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে এনডিএ সরকার। দত্তাত্রেয়কে উপরাষ্ট্রপতি করা হলে অন্তত কিছু শাপ মোচন হবে কেন্দ্রের।
সব মিলিয়ে ধনকড়ের ইস্তফা ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে এখন তুঙ্গে চর্চা। এখন দেখার, তাঁর জায়গায় কে বসেন।