কয়েকদিন আগেই ভারতের দু'টি জাহাজ ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে গুজরাতে পৌঁছেছে। এখন নজর আরও দুই জাহাজের গতিপ্রকৃতিতে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 March 2026 09:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে (Middle East Tension) হরমুজ প্রণালি (Hormuz Pronali) হয়ে ওঠেছে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ। একের পর এক তেলের ট্যাঙ্কার জলপথের অচলাবস্থার কারণে গন্তব্যে যেতে পারছে না। যদিও কিছুটা ছাড় মিলতেই ভারতে (India) ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছে কয়েকটি এলপিজি (LPG) ও তেলের জাহাজ। তবে সঙ্কট এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই ভারতের আরও দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কার শিগগিরই হরমুজের পথ পাড়ি দিতে প্রস্তুত হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।
হরমুজ পাড়ি দিতে প্রস্তুত আরও দুই ভারতীয় ট্যাঙ্কার
জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) উপকূলের কাছে নোঙর করা দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘পাইন গ্যাস’ (Pine Gas) ও ‘জগ বসন্ত’ (Jag Vasant) শীঘ্রই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে। মেরিনট্রাফিকের ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা গেছে, জাহাজ দুটি যাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে সঙ্কেত পাঠিয়েছে।
ব্যবসায়িক সূত্রের দাবি, শনিবারই ট্যাঙ্কার দুটি রওনা দিতে পারে। ‘জগ বসন্ত’ ভাড়া নিয়েছে বিএপিসিএল এবং ‘পাইন গ্যাস’ পরিচালনা করছে আইওসি।
ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহন মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, এই দু’টি জাহাজ চলাচলের বিষয়ে এখনও নিখুঁত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পরিষ্কার জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ভারতের (India) মোট ২২টি জাহাজের নিরাপদ এবং বাধাহীন চলাচলের পক্ষে ভারত অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও (PM Narendra Modi) কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন জাহাজগুলির নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে।
ইরান-মার্কিন সংঘাতে তেলের দামে আগুন
হরমুজ প্রণালি (Hormuz Pronali) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম হুহু করে বেড়েছে (Global Oil Crisis)। ইরানের বক্তব্য, পথ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ট্যাঙ্কারদের জন্যই বন্ধ, অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে আপাতত বাধা নেই। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “হরমুজ খোলা। শুধু যারা আমাদের শত্রু বা আমাদের আক্রমণ করছে এবং তাদের মিত্রদের জন্যই এটি বন্ধ।”
সংঘাতের সূচনা কোথায়?
২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানে বড়সড় সামরিক হামলা চালায় (Israel US Strike on Iran), যেখানে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর (Khamenei Death) মৃত্যুর পর পাল্টা প্রতিশোধে ইরান একাধিক উপসাগরীয় দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এই হামলা এবং প্রতিহামলার জেরে চাপ তৈরি হয় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, তেলের দাম এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহণে।
ভারতের জন্য কী বার্তা?
উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকেপড়া ২২টি ভারতীয় জাহাজের নিরাপদ চলাচল এখন সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। ইতিমধ্যেই দুটি জাহাজ নিরাপদে পথ পার হয়েছে। এবার নজর আরও দুই ট্যাঙ্কারের দিকে, তারা কবে এবং কতটা নিরাপদে হরমুজ পাড়ি দিতে পারে, তা নিয়েই চলছে কূটনৈতিক তৎপরতা। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই ভারতের দু'টি জাহাজ ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে গুজরাতে পৌঁছেছে। এখন নজর আরও দুই জাহাজের গতিপ্রকৃতিতে।
হরমুজে এলপিজি ট্যাঙ্কার জগ বসন্ত (Jag Vasant), বিডব্লিউ এল্ম (BW Elm), বিডব্লিউ লয়্যালিটি (BW Loyalty), পাইন গ্যাস (Pine Gas), গ্রিন সাংভি (Green Sanvi), জগ বিক্রম (Jag Vikram) এবং গ্রিন আশা (Green Asha) আটকে ছিল। এর মধ্যে কমপক্ষে চারটি VLGC অর্থাৎ ‘ভেরি লার্জ গ্যাস ক্যারিয়ার’, বাকি তিনটি মিড-সাইজ ক্যারিয়ার।
ভারতের মাসিক চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ বহন করছে এই জাহাজগুলি। এই ৬টি ট্যাঙ্কার মিলিয়ে বহন করছে প্রায় ৩.৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি (LPG), যা ভারতের মাসিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। তুলনায়, সম্প্রতি নিরাপদে দেশে এসে পৌঁছনো শিবালিক (Shivalik) ও নন্দা দেবী (Nanda Devi) নামের দুটি ট্যাঙ্কার এনেছিল প্রায় ৪৬ হাজার টন করে এলপিজি (LPG)। 'পাইন গ্যাস' ও 'জগ বসন্ত'-এও ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি থাকতে বলে জানা যাচ্ছে।