হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ৪৫,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে দেশে পৌঁছল নন্দা দেবী। গুজরাতের বন্দরে নোঙর, জ্বালানি সরবরাহে মিলল স্বস্তির ইঙ্গিত।
.jpeg.webp)
এপিজি নিয়ে ট্যাঙ্কার মুদ্রা (সোমবারের ছবি)
শেষ আপডেট: 17 March 2026 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাঝে স্বস্তির খবর। হরমুজ (Strait of Hormuz) পেরিয়ে ভারতে পৌঁছল আর এক ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার। নন্দা দেবী (Nanda Devi) নামের এই জাহাজটি প্রায় ৪৫,০০০ মেট্রিক টন গ্যাস (LPG) নিয়ে মঙ্গলবার গুজরাতে নোঙর করল।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাজটি গুজরাতের ভাদিনার বন্দরে (Vadinar Port) রয়েছে বর্তমানে। যদিও প্রাথমিকভাবে এর গন্তব্য ছিল কাণ্ডলা বন্দর (Kandla Port), পরে তা পরিবর্তন করে ভাদিনারে আনা হয়।
এর আগে আরও একটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার শিবালিক (Shivalik) হরমুজ পেরিয়ে মুন্দ্রা বন্দরে (Mundra Port) পৌঁছেছিল। সেই জাহাজও প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার টন এলপিজি সরবরাহ করেছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, জগ লাড়কি (Jag Laadki) নামের আরও একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) থেকে প্রায় ৮১,০০০ টন অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) নিয়ে মুন্দ্রার দিকেই রওনা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজ ও নাবিকেরা সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন।
বর্তমানে হরমুজের পশ্চিমে মোট ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। তাতে মোট ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক (Indian Seafarers) রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ভারতে জ্বালানি এখনও অনেকটাই আমদানির উপর নির্ভর করছে। দেশের প্রায় ৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, ৫০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas) এবং ৬০ শতাংশ এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বিশেষ করে সৌদি আরব (Saudi Arabia) ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি এই সরবরাহের প্রধান উৎস ছিল।
তবে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলা ও ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের জেরে এই সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায়।
যদিও ভারত আংশিকভাবে রাশিয়া (Russia) থেকে তেল আমদানি বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবুও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট। বিশেষ করে শিল্পক্ষেত্র এবং হোটেল-রেস্তরাঁর মতো বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে নন্দা দেবীর নিরাপদে পৌঁছনো কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।