গত তিন দিনে এই বিশাল জাহাজগুলির প্রায় কোনও গতি নেই বললেই চলে। জগ বসন্ত, পাইন গ্যাস ও গ্রিন সাংভি হরমুজের (Strait of Hormuz) বাঁকেই নোঙর করা।

হরমুজে আটকে এলপিজি ট্যাঙ্কার (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 19 March 2026 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East Tension) ২০ দিন পার। আর এই উত্তেজনার মধ্যে ভারতের জন্য বড় বিপদের সঙ্কেত দিচ্ছে হরমুজ প্রণালি (Hormuz Pronali)। ভারতের জন্য নির্ধারিত ৬টি এলপিজি ট্যাঙ্কার এবং একটি এলএনজি ক্যারিয়ার প্রায় স্থবির হয়ে আছে পারস্য উপসাগরে। এদের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, জ্বালানি পৌঁছনো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কোন কোন জাহাজ আটকে?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, হরমুজে আটকে থাকা এলপিজি (LPG) ট্যাঙ্কারগুলি হল,
জগ বসন্ত (Jag Vasant), বিডব্লিউ এল্ম (BW Elm), বিডব্লিউ লয়্যালিটি (BW Loyalty), পাইন গ্যাস (Pine Gas), গ্রিন সাংভি (Green Sanvi), জগ বিক্রম (Jag Vikram) এবং গ্রিন আশা (Green Asha)। এর মধ্যে কমপক্ষে চারটি VLGC অর্থাৎ ‘ভেরি লার্জ গ্যাস ক্যারিয়ার’, বাকি তিনটি মিড-সাইজ ক্যারিয়ার।
গত তিন দিনে এই বিশাল জাহাজগুলির প্রায় কোনও গতি নেই বললেই চলে। জগ বসন্ত, পাইন গ্যাস ও গ্রিন সাংভি হরমুজের (Strait of Hormuz) বাঁকেই নোঙর করা। বিডব্লিউ এল্ম পশ্চিমমুখী পথে ঘুরে গেছে। এতকিছুর পরও নতুন কোনও ট্যাঙ্কার হরমুজ পার হচ্ছে না।
ভারতের মাসিক চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ বহন করছে এই জাহাজগুলি। এই ৬টি ট্যাঙ্কার মিলিয়ে বহন করছে প্রায় ৩.৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি (LPG), যা ভারতের মাসিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। তুলনায়, সম্প্রতি নিরাপদে দেশে এসে পৌঁছনো শিবালিক (Shivalik) ও নন্দা দেবী (Nanda Devi) নামের দুটি ট্যাঙ্কার এনেছিল প্রায় ৪৬ হাজার টন করে এলপিজি (LPG)।
সমুদ্রে আটকে ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক
শুধু জ্বালানি নয়, বিপদে পড়েছেন ৬১১ জন ভারতীয় নাবিকও। হরমুজে আটকে থাকা জাহাজগুলোর জ্বালানি শেষের পথে, খাদ্য-জলও কমছে।
ভারতের এলপিজির চাহিদা
মন্ত্রকের হিসাবে, সংঘাতের মাঝেও বর্তমানে অঞ্চলে থাকা ভারতীয় জাহাজে আছে-
সরবরাহ কম, উৎপাদন বাড়ালেও ঘাটতি থাকবে
কেন্দ্রীয় সরকার জানাচ্ছে, দেশীয় LPG উৎপাদন ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবুও মাসে প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ২৪-২৯টি ট্যাঙ্কার, কারণ আমদানির প্রয়োজন পুরো শূন্যে নামবে না। গত দুই সপ্তাহে মাত্র দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার পৌঁছেছে ভারতীয় উপকূলে, যা দেশের মোট এলপিজি চাহিদার মাত্র একদিনের জোগান।
হোটেল–রেস্তরাঁয় সীমিত এলপিজি সরবরাহ
গৃহস্থদের এলপিজি জোগান বজায় রাখতে হোটেল ও রেস্তরাঁয় বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি না থামলে সঙ্কট বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।