রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে একপা সরে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্লেষণের এমন মুহূর্ত সচরাচর দেখা যায় না। তবে অমিত শাহের মুখে অবসরের পরের পরিকল্পনা যে শুধু প্রতীকী নয়, তার ছাপ মিলল তাঁর কৃষিবিষয়ক বিশ্লেষণেই।

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 10 July 2025 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ কর্মজীবনের পর সকলেই চান একটু থামতে। শান্ত-শীতল জীবনের অনুভূতি নিতে। কাজের চাপ, চিন্তা থেকে শত হাত দূরে সরে যেতে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জন্যও এই বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। অনেক প্রবীণ নেতাই ভাবেন একটু থেমে যাওয়ার কথা। সেই তালিকাতেই এবার নাম লেখালেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝে তিনি জানালেন, অবসরের পর (Post Retirement) বাকি জীবন তিনি কাটাতে চান বেদ-উপনিষদ পাঠ ও চাষাবাদ করে।
বুধবার আমেদাবাদে (Ahmedabad) ‘সহকার সংবাদ’ নামে এক আলোচনাচক্রে যোগ দেন অমিত শাহ। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুজরাত, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ থেকে আসা মহিলারা। তাঁদের সঙ্গে জীবনের এই ব্যক্তিগত ভাবনার কথা ভাগ করে নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, “অবসরের পর আমি বাকি জীবনটা উৎসর্গ করব বেদ, উপনিষদ আর প্রকৃতিকে।”
ব্যক্তিগত জীবনে ইতিমধ্যেই চাষাবাদের চর্চা শুরু করেছেন তিনি এমনটাই জানান শাহ। তাঁর কথায়, “রাসায়নিক সারের মাধ্যমে উৎপন্ন গমই ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, ক্যানসারের মতো অসুখের কারণ। এখন আমরা জানি, রাসায়নিকমুক্ত খাদ্য খেলে ওষুধ প্রয়োজন পড়ে না।” তিনি জানান, তাঁর নিজের খামারেও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ১.৫ গুণ বেড়েছে।
এই মঞ্চে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দায়িত্ব পাওয়ার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন অমিত শাহ। বলেন, “যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলাম, সবাই বলল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছি। কিন্তু তার পাশাপাশি যখন সহযোগিতা মন্ত্রকের দায়িত্ব পেলাম, তখন মনে হল কৃষক, গরিব, পশু আর গ্রামের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।”
রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে একপা সরে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্লেষণের এমন মুহূর্ত সচরাচর দেখা যায় না। তবে অমিত শাহের মুখে অবসরের পরের পরিকল্পনা যে শুধু প্রতীকী নয়, তার ছাপ মিলল তাঁর কৃষিবিষয়ক বিশ্লেষণেই। ‘বেদ-উপনিষদ ও প্রকৃতি’—রাজনৈতিক জীবনের শেষে হয়তো সেখানেই খুঁজছেন নিজের নতুন পাঠ।