নির্বাচনের আগে এই ধরনের জনমুখী প্রতিশ্রুতি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
শেষ আপডেট: 4 April 2026 20:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে (Assam Assembly Election 2026) সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sharma) একটি বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর এই প্রতিশ্রুতি ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ক্ষমতায় ফিরলে রাজ্যের বাসিন্দাদের বছরে দুটি এলপিজি সিলিন্ডার (LPG Cylinder) বিনামূল্যে দেওয়া হবে। দেশজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আবহে এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।
ভোটের প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের খরচ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। বিশেষ করে মহিলাদের রান্নার খরচ কমাতে এই প্রকল্প কার্যকর হবে বলে দাবি বিজেপির। নির্বাচনের আগে এই ধরনের জনমুখী প্রতিশ্রুতি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
কিন্তু, যে সময়ে এই ঘোষণার করা হয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে ভারতে এলপিজি-সহ জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী আগেই দাবি করেন অসমে এলপিজি-র ঘাটতি নেই। সেখানে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ে। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বা সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে সরকারি ভর্তুকির উপরেও চাপ বাড়ে। এই প্রেক্ষিতে বছরে দু’টি ফ্রি সিলিন্ডার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আসলে কতটা বাস্তব সম্মত, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এটি নির্বাচনের আগে অসাড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। তাঁদের দাবি, যখন দেশজুড়ে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তখন এই ধরনের প্রতিশ্রুতি কেবল ভোটের পাওয়ার কথা মাথায় রেখে করা হচ্ছে। মানুষের সমস্যার সমাধানের কথা ভাবা হচ্ছে না।
অন্যদিকে বিজেপির দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি সরাসরি উপকৃত হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করলেই এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সম্ভব বলে দাবি বিজেপির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অসমের নির্বাচনে এবার ‘কল্যাণমূলক রাজনীতি’ বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। হিমন্তর এই ঘোষণা সেই কৌশলেরই অংশ। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উপর।