গত বছর দিল্লিতে এই ক্লাউড সিডিং প্রকল্প বড় আকারে শুরু হলেও প্রত্যাশিত ফল মেলেনি। মূল সমস্যা ছিল পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও মেঘের অভাব।

দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টির চেষ্টা
শেষ আপডেট: 4 April 2026 20:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির বায়ু দূষণ (Delhi Air Pollution) সাম্প্রতিক অতীতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বায়ুদূষণের মোকাবিলায় গত বছর কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের চেষ্টা করে সরকার আইআইটি কানপুর (IIT Kanpur)। যদিও, ব্যর্থ হয় সেই প্রচেষ্টা। সেখান থেকেই শিক্ষা নিয়ে, এই বছর ফের কৃত্রিম বৃষ্টি বা ক্লাউড সিডিং-এর (Cloud Seeding) পথে হাঁটতে চাইছে দিল্লি সরকার (Delhi Government)। গত বছর এই উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও, এবার নতুন করে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রশাসনিক ও বৈজ্ঞানিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বায়ুদূষণ চরমে পৌঁছালে মানুষকে দ্রুত স্বস্তি দিতে কৃত্রিম বৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য অনুকূল আবহাওয়া তৈরি হলেই বিমান থেকে বিশেষ রাসায়নিক ছড়িয়ে মেঘ তৈরি করে বৃষ্টির চেষ্টা করা হবে। এই প্রযুক্তি মূলত বাতাসে থাকা মেঘকে কাজে লাগিয়ে বৃষ্টিপাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, অর্থাৎ আকাশে উপযুক্ত মেঘ না থাকলে এই পদ্ধতি কার্যকর হয় না।
প্রসঙ্গত, গত বছর দিল্লিতে এই ক্লাউড সিডিং প্রকল্প বড় আকারে শুরু হলেও প্রত্যাশিত ফল মেলেনি। মূল সমস্যা ছিল পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও মেঘের অভাব। এরফলে বিমান থেকে সিলভার আয়োডাইডসহ বিভিন্ন উপাদান ছড়ানো হলেও বৃষ্টি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাউড সিডিং একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং এটি সম্পূর্ণভাবে আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল। মেঘে পর্যাপ্ত জলীয়বাষ্প না থাকলে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি ঘটানো সম্ভব নয়। ফলে এই পদ্ধতি কখনও কখনও সাময়িক স্বস্তি দিলেও, স্থায়ী সমাধান নয়।
দিল্লির ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও গভীর। শীতকালে তাপমাত্রা কমে গেলে দূষিত কণাগুলি বাতাসে আটকে থাকে এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। এই অবস্থায় কৃত্রিম বৃষ্টি হলে তা কিছুটা দূষণ কমাতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি মূল সমস্যার সমাধান নয়। উল্টে যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পক্ষেত্রের দূষণ এবং ফসল পোড়ানোর মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করলে তবেই দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আগের বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও বিষদ পরিকল্পনা করা হবে। আবহাওয়া দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সঠিক সময়ে ক্লাউড সিডিং করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। আগের বছরের মত ব্যর্থতা এড়াতে এই পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজধানীর দূষণ সমস্যার দ্রুত সমাধান খুঁজতে ফের একবার কৃত্রিম বৃষ্টির এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও, এর কার্যকারিতা এবং বাস্তব ফলাফল নিয়ে এখনও সংশয় রয়ে গেছে।