কেন্দ্রীয় সরকার আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল তিন দিনের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকছে। এই অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

লোকসভা অধিবেশন
শেষ আপডেট: 4 April 2026 20:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা বিশেষ অধিবেশন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের (Congress) অভিযোগ, এই অধিবেশন ডাকার মূল উদ্দেশ্য আসলে আইন প্রণয়ন নয়। আসলে বিজেপি চেষ্টা করছে বরং পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া। এই অধিবেশনকে নির্বাচনী আচরণ বিধির লঙ্ঘন বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
কেন্দ্রীয় সরকার (BJP) আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল তিন দিনের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকছে। এই অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল লোকসভা আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার প্রস্তাব এবং মহিলাদের সংরক্ষণ আইন দ্রুত কার্যকর করা।
যদিও কংগ্রেসের অভিযোগ, পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন চলাকালীন এই অধিবেশন হলে তা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (MCC) অর্থাৎ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে। কংগ্রেস নেতা জয়ারাম রমেশের দাবি, এই অধিবেশনের একমাত্র উদ্দেশ্য পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর নির্বাচনে প্রভাব তৈরি করা। তাঁর কথায়, “নির্বাচনের মাঝখানে এই অধিবেশন ডাকার কোনও প্রয়োজন ছিল না, কয়েকদিন পরেও তা করা যেত।”
কংগ্রেসের আরও অভিযোগ, সরকার এত দ্রুত সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্বিন্যাস (delimitation) করতে চাইছে, যার "পরিণতি গুরুতর” হতে পারে। বিরোধীদের মতে, এই ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার সেই আলোচনা এড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে।
অন্যদিকে, সরকার এই সব অভিযোগ খারিজ করেছে। কেন্দ্রের যুক্তি, সংসদের এই অধিবেশন সংবিধান মেনেই ডাকা হয়েছে। তাদের দাবি, আইন প্রণয়নের জন্য যে কোনও সময় অধিবেশন ডাকা যেতে পারে। সরকার মনে করে, মহিলাদের সংরক্ষণসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বিলগুলি দ্রুত কার্যকর করা জরুরি, সেই কারণেই দ্রুততার সঙ্গে এই অধিবেশন ডাকা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী আবহে, এই ঘটনা শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাতকে আরও তীব্র করবে। একদিকে সরকারের উন্নয়নের যুক্তি, অন্যদিকে বিরোধীদের করা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ। পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী আবহ হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, বিশেষ সংসদের আসন্ন অধিবেশন এখন শুধুমাত্র আইন প্রণয়নের বিষয় নয়। তা পরিণত হয়েছে একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে। ভোটের মুখে এই পদক্ষেপ কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।