স্ত্রীর ভরণপোষণ স্বামীর আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব, স্পষ্ট বার্তা হাইকোর্টের।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 January 2026 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রীর ভরণপোষণ কোনও দয়া নয়, স্বামীর আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব, স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad High Court)। ভরণপোষণ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্বামীর মোট আয়ের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত স্ত্রীর ভরণপোষণের (Maintenance) অঙ্ক নির্ধারণ করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে ফ্যামিলি কোর্টের (Family Court) রায় বহাল রেখে স্বামীর আবেদন খারিজ করে দিলেন বিচারপতি।
শাহজাহানপুরের বাসিন্দা সুরেশ চন্দ্র (Suresh Chandra) তাঁর স্ত্রীর ভরণপোষণের অঙ্ক বাড়ানো নিয়ে আপত্তি জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই অতিরিক্ত প্রিন্সিপাল জজ, ফ্যামিলি কোর্ট (Additional Principal Judge, Family Court) তাঁর স্ত্রীর মাসিক ভরণপোষণ ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ বাতিলের দাবিতেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সুরেশ।
বিচারপতি মদন পাল সিং (Justice Madan Pal Singh) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আবেদনকারী শারীরিকভাবে অক্ষম, এমন কোনও দাবি করা হয়নি। ফলে ধরে নেওয়া হচ্ছে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। এই অবস্থায় স্ত্রীর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের মন্তব্য, “স্ত্রী নিজে উপার্জন করতে না পারলে তাঁকে ভরণপোষণ দেওয়া স্বামীর পবিত্র ও আইনগত কর্তব্য।”
আদালতে আবেদনকারীর আইনজীবী জানান, সুরেশ চন্দ্র একজন দিনমজুর (Labourer) এবং অল্প আয়েই সংসার চালান। একাধিক বার ভরণপোষণের অঙ্ক বাড়ানো হয়েছে, যা তাঁর পক্ষে অত্যধিক। তবে রাজ্যের তরফে সিনিয়র অতিরিক্ত সরকারি আইনজীবী (Senior AGA) পাল্টা যুক্তি দেন, বর্তমান বাজারদরের (Inflation) পরিস্থিতিতে ৩,০০০ টাকা মোটেও বেশি নয়।
হাইকোর্ট জানায়, নথিতে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে স্ত্রীর কোনও রকম উপার্জনের উৎস আছে। ফলে ধরে নেওয়াই যুক্তিসঙ্গত যে তিনি নিজের খরচ চালাতে অক্ষম। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) একাধিক রায় উদ্ধৃত করে আদালত জানায়, যদি স্বামী দিনমজুর হিসেবেও কাজ করেন, তবে দৈনিক গড়ে ৬০০ টাকা আয় করা সম্ভব অর্থাৎ মাসে প্রায় ১৮,০০০ টাকা। সেই হিসেবে আয়ের ২৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত ভরণপোষণ ধার্য করা আইনসঙ্গত।
এই প্রেক্ষিতে আদালত জানিয়ে দেয়, মাসে ৩,০০০ টাকা ভরণপোষণ কোনও ভাবেই অতিরিক্ত নয় বরং তা ন্যূনতম। ফলে সুরেশ চন্দ্রের আবেদন খারিজ করে ফ্যামিলি কোর্টের রায়ই বহাল রাখা হয়।