পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সীমান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাওয়ার কথা। বুধবারই বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার পর সোজা ইন্দো-নেপাল সীমান্তে যাবেন তিনি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 September 2025 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-নেপাল সীমান্তে (Indo-Nepal Border) উত্তেজনা অব্যাহত। মঙ্গলবার এক ট্রাক চালক গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। আর আজ নেপালে অশান্তির (Nepal Protest) আবহে ইন্দো-নেপাল সীমান্তে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট (High Alert)।
সোমবার সকাল থেকেই আতঙ্কে বহু ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরছেন। নেপালের দিকে কাকারভিটা এবং বিরাটনগর সীমান্ত দিয়ে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে এবং যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল।
বুধবার সীমান্তের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন ADG (কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্স) অজয় নন্দ, DIG (SSB) মঞ্জিত সিং এবং দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার প্রবীণ প্রকাশ। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ কুমার যাদব।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সীমান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাওয়ার কথা। বুধবারই বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার পর সোজা ইন্দো-নেপাল সীমান্তে যাবেন তিনি। সীমান্ত এলাকার বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখে তিনি বিদেশ মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন সীমান্তের নিরাপত্তা এবং নেপালের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েই।
সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এডিজি সংবাদমাধ্যমে বলেন, কতজন ভারতীয় এখনও পর্যন্ত নেপালে আটকে রয়েছেন সে বিষয়ে তাঁদের হাতে পোক্ত কোনও তথ্য নেই। সংখ্যা ৩০০ বা তার বেশি হতে পারে। তবে বেশিরভাগের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাঁরা আশা করেন, নেপালের পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি শান্ত এবং স্বাভাবিক হবে। তারপর আলোচনা করে আটকে পড়া ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
নেপাল সরকার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব এবং এক্স-সহ মোট ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করেছিল। এর প্রতিবাদে নেপালের তরুণ প্রজন্ম রাস্তায় নেমে আসে। এর ফলেই বিক্ষোভ ও পুলিশের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষ শুরু হয়।
তবে এখন জেন জি গোষ্ঠী দাবি করেছে, নেপালে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ‘ছিনতাই’ করে অশান্তি পাকিয়েছে ‘বহিরাগতরা’। গোষ্ঠীর দাবি, গত দুদিন ধরে যে ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড, লুটতরাজসহ ধ্বংসাত্মক কাজ চলছে তার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনে বাইরে থেকে ঢুকে পড়া সুবিধাবাদী শ্রেণির লোকজন জেন জি-র মুখে কাদা মাখাতে এসব হিংসা ও ধ্বংস চালাচ্ছে।
বুধবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু শহরের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। যদিও বাড়ি ও গাড়িগুলি থেকে নিভন্ত আগুনের ধোঁয়া এখনও শহরের আকাশ ঢেকে রেখেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেনাবাহিনী কার্ফু জারি করেছে। হিংসা ও ভাঙচুরের জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। লুট করা আগ্নেয়াস্ত্র অবিলম্বে ফেরত দিতে বলা হয়েছে আন্দোলনকারীদের। এত কিছুর মধ্যেও প্রতিবাদকারীদের দাবি, এর মধ্যে ঢুকে পড়েছে বাইরের লোকজন।