বিচারপতি ক্ষিতিজ শৈলেন্দ্রের একক বেঞ্চ মিরাটের অতিরিক্ত দায়রা বিচারকের জারি করা সমন খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে জানায়, মামলায় ট্রায়াল কোর্টের এই ‘অতি তাড়াহুড়ো’ পদ্ধতি আদালত মেনে নিতে পারে না।

এলাহাবাদ হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 1 January 2026 18:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিরাটের (Meerut) একটি ফৌজদারি মামলায় ট্রায়াল কোর্টের (Trial Court) ভূমিকা নিয়ে কড়া ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad High Court)। সুপ্রিম কোর্টে সংশ্লিষ্ট মামলার বিশেষ অনুমতি আবেদন (SLP) বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও যে ভাবে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিম্ন আদালত, তা একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে উচ্চ আদালত। এমনকী, প্রয়োজনে এক–দু’দিন অপেক্ষা করলে “আকাশ ভেঙে পড়ত না” বলেও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি ক্ষিতিজ শৈলেন্দ্রের একক বেঞ্চ মিরাটের অতিরিক্ত দায়রা বিচারকের জারি করা সমন খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে জানায়, মামলায় ট্রায়াল কোর্টের এই ‘অতি তাড়াহুড়ো’ পদ্ধতি আদালত মেনে নিতে পারে না।
মামলার প্রেক্ষাপট হল, ২০২০ সালের মে মাসে মিরাটে জোড়া খুনের ঘটনায় হামিদ, আক্রম ও দানিশ নামে তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। তদন্ত শেষে পুলিশ তাঁদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেয়। তবে পরে প্রসিকিউশন পক্ষ ওই তিন জনকে ফের মামলায় যুক্ত করার আবেদন জানায়।
ট্রায়াল কোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাঁদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। এর বিরুদ্ধেই গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে হাইকোর্টে ফৌজদারি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন অভিযুক্তেরা।
হাইকোর্টে শুনানির সময় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী জানান, ট্রায়াল কোর্ট জানত যে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে SLP বিচারাধীন রয়েছে এবং সেই আবেদন ১৪ অগস্ট শুনানির তালিকায় রয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রকাশের জন্য অপেক্ষা না করেই ওই দিনই ট্রায়াল কোর্ট আবেদন মঞ্জুর করে সমন জারি করে দেয়। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা ওয়েবসাইটে আপলোড হয় ১৭ অগস্ট।
অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী যুক্তি দেন, এটি একটি গুরুতর দ্বৈত খুনের মামলা এবং অভিযুক্তদের নাম মূল এফআইআরেই ছিল। কেবলমাত্র কিছু স্বাধীন সাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
১৮ পাতার রায়ে এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানায়, আগে দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য এক–দু’দিন অপেক্ষা করলে কোনও ক্ষতি হত না। এই ধরনের তাড়াহুড়ো অপ্রয়োজনীয় এবং অনভিপ্রেত বলেই মন্তব্য করে আদালত। পাশাপাশি, বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা যেন কোনও ভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়েও নিম্ন আদালতগুলিকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে হাইকোর্ট।