এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ছ’জন অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান নেওয়া হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ-সহ ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 December 2025 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেরাদুনে (Dehradun) ত্রিপুরার ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমার (Angel Chakma) মৃত্যুতে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা কার্যত খারিজ করেছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ (Uttarakhand)। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে দেরাদুনের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ অজয় সিং স্পষ্ট জানান, এই ঘটনায় জাতিগত বা বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলার (Racial Attack) কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৯ ডিসেম্বর সন্ধে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। সেদিন ছ’জন পড়ুয়া একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। অ্যাঞ্জেল চাকমা এবং তাঁর ভাইও সেই জায়গায় উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের দাবি, ওই ছ’জনের মধ্যে ঠাট্টা-তামাশা ও পরস্পরের মধ্যে খুনসুটি চলছিল। সেই সময় কোনও কারণে কথাকাটাকাটি শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অজয় সিংয়ের কথায়, “সব কিছু ঘটেছে কয়েক মুহূর্তের উত্তেজনায়। প্রচণ্ড রাগের বশে অভিযুক্তরা হামলা চালায়। কাউকে খুন করার উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু যেভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
পুলিশ জানায়, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এক অভিযুক্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে অ্যাঞ্জেলের উপর হামলা চালায়। পরে আরেকজন অভিযুক্ত কাছের একটি ডিমের ঠেলা থেকে নেওয়া ছোট ছুরি দিয়ে তাঁর পিঠে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় অ্যাঞ্জেলকে তাঁর ভাই ই-রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় ২৪ বছরের ওই এমবিএ ছাত্রের।
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ছ’জন অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান নেওয়া হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ-সহ ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, দেরাদুনে বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের দুই হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন ত্রিপুরার বাসিন্দা। গত আড়াই বছরে কোনও কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতিগত হামলার অভিযোগ সামনে আসেনি বলেও দাবি পুলিশের।
তবে নিহত ছাত্রের পরিবারের বক্তব্য পুলিশের দাবির সঙ্গে মিলছে না। অ্যাঞ্জেলের বাবা, যিনি বর্তমানে মণিপুরে বিএসএফ-এ কর্মরত, জানান, তাঁর ছোট ছেলেকে ‘চাইনিজ’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছিল। ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে যেতেই অ্যাঞ্জেলের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা ‘চাইনিজ মোমো’-সহ একাধিক জাতিগত অপমানজনক মন্তব্য করেছিল। অ্যাঞ্জেল জানিয়েছিলেন, তিনি ভারতীয়—চাইনিজ নন। তার পরেই ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা জিনিস দিয়ে তাঁর উপর আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনাকে ঘিরে পুলিশি তদন্ত চললেও, জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ এবং পুলিশের ব্যাখ্যা - এই দুইয়ের সংঘাতই এখন এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।