Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’

'হর ঘর জল' স্কিমে দেশজুড়ে অনিয়ম, লোপাট কয়েকশো কোটি, রাজ্যগুলিকে তদন্তের নির্দেশ দিল্লির

সরকারি সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে দিল্লিতে এই বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর সব রাজ্যকে বলা হয়েছে, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মন্ত্রী, অফিসার, ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে গোয়েন্দা তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে।

'হর ঘর জল' স্কিমে দেশজুড়ে অনিয়ম, লোপাট কয়েকশো কোটি, রাজ্যগুলিকে তদন্তের নির্দেশ দিল্লির

ফাইল ছবি

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 20 October 2025 10:56

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশুদ্ধ পানীয় জল (pure drinking water) সরবরাহে ভারত সরকারের (Government of India) মেগা প্রকল্প জল জীবন মিশনে (Jal Jivan Mission) নানা অনিয়ম ধরা পড়েছে। প্রতিটি পরিবারে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দিতে নরেন্দ্র মোদি সরকার 'হর ঘর জল' স্কিম (Har Ghar Jal scheme) চালু করে বছর দশেক আগে। চলতি বছরে সেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছে পৌঁছতে পারেনি বেশিরভাগ রাজ্য। সেই কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০২৮ সাল করা হয়েছে। জল সরবরাহ মন্ত্রকের আরজি মেনে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রকের একটি পর্যবেক্ষণকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে জলজীবন মিশন প্রকল্পে। অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, ওই প্রকল্পে বিপুল অর্থ নয় ছয় হয়েছে। ‌

সরকারি সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে দিল্লিতে এই বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর সব রাজ্যকে বলা হয়েছে, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মন্ত্রী, অফিসার, ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে গোয়েন্দা তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে। মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে লোকায়ুক্তকে তদন্তের ভার দেওয়া যেতে পারে, বলা হয়েছে কেন্দ্রের নির্দেশিকায়।‌

এই নির্দেশ জারির আগে সব রাজ্যে নজরদার নিয়োগ করেছিল কেন্দ্র।‌ তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তদন্তের নির্দেশ জারি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে এটি একটি মেঘা দুর্নীতির ঘটনা। বেশিরভাগ রাজ্য থেকেই এই প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ নয়ছয়ের অভিযোগ এসেছে।‌ দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বেশকিছু রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা সমস্যা দেখা দেয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো ভোটমুখী বিহার। ‌ ওই রাজ্যে জলজীবন মিশনে পানীয় জলের লাইন পেয়েছে বলে সরকারি রিপোর্টে যে পরিবার গুলির নাম উল্লেখ আছে দেখা গিয়েছে তারা ওই সুবিধা পায়নি। গত মাসে মনিপুরে এই প্রকল্পের অনিয়মের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অশান্তি হয়। ‌ শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে।

অনিয়মের অন্যতম দিক হল প্রকল্পের খরচ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। অর্থ ও ব্যয় বিষয়ক সচিবের কাছ থেকে এই সংক্রান্ত ‘নোট’ বা সুত্র পাওয়ার পর একাধিক রাজ্যে ‘নজরদার’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রক।

দেশের ১৩৫টি জেলায় ১৩৮ প্রকল্প খতিয়ে দেখেন মন্ত্রকের ৯৯জন নোডাল অফিসার। ওই ১৩৫ জেলা মধ্যপ্রদেশ (Madhyapradesh), রাজস্থান (rajasthan), উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh), গুজরাত (Gujrat), ওড়িশা (Odisha), তামিলনাড়ু (Tamil Nadu), কেরল (Kerala) এবং কর্নাটকের (Karnataka)। এই সাত রাজ্যের পাঁচটি বিজেপি শাসিত। তামিলনাড়ুতে ক্ষমতায় ডিএমকে, কর্নাটকে কংগ্রেস এবং কেরলে সিপিএম। সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৮টি প্রকল্প খতিয়ে দেখা হয় মধ্যপ্রদেশে।

পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) একশো দিনের কাজ এবং আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও জল জীবন মিশনে অনিয়মে কেন্দ্রের তালিকায় বাংলার নাম নেই। এই প্রকল্পে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বিহারে। বিজেপি সমর্থিত নীতীশ কুমারের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে বহু প্রকল্পের বাস্তবে কোনও অস্তিত্ব নেই। খাতায়কলমে সীমাবদ্ধ স্কিম। বিহারের অনিয়ম নিয়ে আগেই তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্র।

জল জীবন মিশন নরেন্দ্র মোদী সরকারের বহু প্রচারিত প্রকল্পগুলির একটি। ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সব ঘরে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। চলতি বছরের গোড়ায় কেন্দ্রের ব্যয় বিষয়ক সচিব এই প্রকল্পের বরাদ্দ ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেন। যুক্তি হিসাবে বলা হয় বহু জায়গায় অতিরিক্তি খরচ দেখানো হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় মঞ্জুর করা হবে না। একই মন্তব্য করে নোট দেয় অর্থমন্ত্রকও।

এরপর ক্যাবিনেট সচিব জলশক্তি মন্ত্রকের অফিসারদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, রাজ্যগুলিতে টিম পাঠিয়ে প্রকল্পের ব্যয় এবং আনুষঙ্গিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। রাজ্যগুলির প্রথম তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নাম ছিল না।‌ কেন্দ্রের সদ্য পাঠানো নির্দেশিকায় বাংলার নাম আছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।

তবে সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, জলশক্তি মন্ত্রক সব রাজ্যকেই এই প্রকল্প নিয়ে সতর্ক করেছে এবং অনিয়মে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তদন্ত শুরু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প তাই নির্দিষ্ট করে সিবিআই তদন্তে অগ্রাধিকার দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক।


```