পাকিস্তান থেকে কোটি কোটি টাকা আসত, ওয়াঘায় গিয়ে নিয়ে আসতেন নগদ টাকা। আইএসআই-র গুপ্তচর সন্দেহে গুরুগ্রামের এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। আর্থিক লেনদেন ও গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
.jpeg.webp)
গুরুগ্রামের আইনজীবী
শেষ আপডেট: 3 December 2025 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)–কে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গুরুগ্রামের এক আইনজীবীকে (lawyer) গ্রেফতার করল পুলিশ। রিজওয়ান নামে ওই আইনজীবীর সঙ্গে আইএসআই-এর যোগ স্পষ্ট। আর্থিক লেনদেন ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে ‘হাওয়ালা’ (Hawala) পথে টাকা তুলে পঞ্জাব-সহ অন্যান্য এলাকায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ (Terror Funding) শক্তিশালী করতে সাহায্য করছিলেন তিনি।
তদন্তে জানা গিয়েছে, রিজওয়ানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আইনজীবী মুশারফ ওরফে পারভেজই প্রথম পুলিশকে তাঁর বিভিন্ন যাতায়াত ও লেনদেনের বিষয়ে তথ্য দেন। মুশারফ জানান, ২০২২ সালে সোহনা কোর্টে ইন্টার্নশিপ করার সময় রিজওয়ানের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব। পরে দুজনই আলাদা আলাদা কোর্টে কাজ করলেও ব্যক্তিগত যোগাযোগ বজায় ছিল।
মুশারফের দাবি, চলতি বছরের জুলাই মাসে তাঁরা দু’জনে অমৃতসরের ওয়াঘা সীমান্ত (Wagah Border) পর্যন্ত গিয়েছিলেন। সেখানে ‘গোল্ডেন টেম্পল’ (Golden Temple) চত্বরে দু’চাকায় আসা কিছু লোকের কাছ থেকে রিজওয়ান একটি টাকার ব্যাগ সংগ্রহ করেন। তিনি সেই লোকদের চিনতে পারেননি। ফেরার পথে দু’জনের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ট্রেনে করে ফিরতে হয়।
এর পর এই অগস্টেও অমৃতসরে যান তাঁরা। উদ্দেশ্য, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি তুলে আনা। সেখানেই হোটেলে রাত কাটান দু’জনে। কিন্তু মাঝরাতে রিজওয়ান আবার বেরিয়ে যান এবং জানান 'টাকা আনতে যাচ্ছেন।'
তদন্তে মুশারফ আরও জানান, মোট সাত বার অমৃতসর ভ্রমণ করেছেন রিজওয়ান এবং বিভিন্ন সময়ে স্করপিও (Scorpio) এবং স্কোডা (Skoda) গাড়িতে করে আসা ব্যক্তিদের থেকে টাকা সংগ্রহ করেছেন।
তদন্তে রিজওয়ান স্বীকার করেন, মোট ৪১ লক্ষ টাকা নগদ (41 Lakh Cash) সংগ্রহ করেছিলেন, যা তিনি অজয় অরোরা নামে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেন। আরও জানা গিয়েছে, তাঁর নামে দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল, একটি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে (PNB) এবং অন্যটি ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্কে (IndusInd Bank)। পিএনবি-র অ্যাকাউন্টটি কয়েক মাস আগে লেনদেনের সীমা ছাড়ানোর কারণে বন্ধ হয়ে যায়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের পাঠানো কোটি টাকার ‘হাওয়ালা’ অর্থ ওই অ্যাকাউন্ট দিয়ে ঘুরত, যার একটি বড় অংশ ব্যবহার হত পঞ্জাবে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে।
রিজওয়ানের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রেফতারের কিছুক্ষণ আগে মুশারফ ও রিজওয়ানের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে মুশারফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ না মিলায় চার দিন পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, পাকিস্তানি গুপ্তচরবৃত্তির এই মামলায় অমৃতসর থেকে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করেছে SIT—সন্দীপ সিং ওরফে গগন, অমরদীপ সিং এবং জশকরণ সিং। অভিযোগ, পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের পাঠানো কোটি টাকার হাওলা অর্থ রিজওয়ানের কাছে পৌঁছনো এবং পঞ্জাবে দেশবিরোধী কার্যকলাপের (Anti-National Activities) জন্য অর্থের জোগান দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা।
নুহ ও পঞ্জাবজুড়ে বিভিন্ন স্থানে একাধিক দল নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই নেটওয়ার্ক বড় এবং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।