উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে সুরক্ষিত সেনা ছাউনিতেও যদি অনুপ্রবেশ সম্ভব হয়, তবে সীমান্ত নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত?

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 6 November 2025 19:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের (North Bengal) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেনা ছাউনি বাগডোগরার (Bagdogra Army Camp) ব্যাঙডুবিতে ফের অনুপ্রবেশ কাণ্ড। গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে এক বাংলাদেশি নাগরিককে (Bangladeshi arrested) গ্রেফতার করল সেনা জওয়ানরা। সেনা ছাউনির ভেতরে রাস্তার কাজের সুপারভাইজার পরিচয়ে প্রবেশ করেছিল সে। পরে তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিচয়পত্র উদ্ধার হতেই ধরা পড়ে পুরো কাণ্ড।
ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাগডোগরা ও আশপাশের এলাকায়। উঠছে প্রশ্ন — এত গুরুত্বপূর্ণ সেনা ছাউনির নিরাপত্তা বলয় (Security) ভেদ করল কীভাবে এক বাংলাদেশি?
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি রাকেশ সিং জানিয়েছেন, “ধৃত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে সেনা জওয়ানরাই প্রথমে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। কীভাবে এবং কী উদ্দেশে সে সেনা ছাউনিতে ঢুকেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।”
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম নন্দ মণ্ডল, বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার চাঁরিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯০ সালে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকে সে। তারপর থেকেই জলপাইগুড়িতে বসবাস করছিল। দালালের মাধ্যমে মোটা টাকার বিনিময়ে ভারতের জাল পরিচয়পত্রও তৈরি করে নেয়।
স্থানীয় ঠিকাদারের অধীনে কাজ করত নন্দ মণ্ডল। সেই সূত্রেই সেনা ছাউনির বরাতপ্রাপ্ত রাস্তার কাজে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিল। বুধবার ছাউনিতে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা পরীক্ষা চলাকালীন সেনা জওয়ানরা তার কাছ থেকে দুটি আলাদা পরিচয়পত্র—একটি ভারতের, অন্যটি বাংলাদেশের—পাওয়ায় ধরা পড়ে সে।
সেনা সূত্রে জানা গেছে, তার কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কাগজ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নন্দ স্বীকার করেছে, গত তিন দশকে একাধিকবার বাংলাদেশে যাতায়াত করেছে সে।
এর আগেও চলতি বছরের জুলাই মাসে একই ব্যাঙডুবি সেনা ছাউনি থেকে দুই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরপর অনুপ্রবেশের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে সেনা ও নিরাপত্তা মহলে।
সেনা আধিকারিকদের বক্তব্য, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও কড়াকড়ি করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে বাগডোগরা থানার পুলিশ ও সেনার গোয়েন্দা বিভাগ।
প্রশ্ন একটাই — উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে সুরক্ষিত সেনা ছাউনিতেও যদি অনুপ্রবেশ সম্ভব হয়, তবে সীমান্ত নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত?