পুলিশের কাছে গোটা ঘটনাটি জানায় সিরাজের পরিবার। তিনদিন ধরে নদীতে তল্লাশি চালিয়েও দেহ উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। এরপর আরও একটু তদন্ত এগোলে যুবকের গতিবিধি ধরা পড়ে বেঙ্গালুরুতে।
.jpg.webp)
ছবি- এআই নির্মিত
শেষ আপডেট: 18 October 2025 19:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধারের বোঝা এতটাই বেড়ে গেছিল যে শোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নদীতে ঝাঁপ দিয়ে 'আত্মঘাতী' হন এক যুবক। আশ্চর্যজনকভাবে কিছুদিন পরই তাঁর খোঁজ মিলল অন্য এক শহরে। ঘটনাটা শুনলে কি কোনও বলিউড সিনেমার কথা মনে পড়ছে? হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন, কথা হচ্ছে শাহিদ কাপুরের (Sahid Kapoor) 'চুপ চুপ কে' (Chup Chup Ke) সিনেমা নিয়ে। রিলের সঙ্গে রিয়েল লাইফ কেমন মিলে গেল? তবে আসলেই কি পুরোটা মিলল নাকি একটু ফাঁকফোকর রয়েছে, বাস্তবে ঘটনাটি ঠিক কী?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুজরাতের ব্যবসায়ী হুনানি সিরাজ আহমেদ ভাই গত ১৭ সেপ্টেম্বর কাজের সূত্রে কেরলে গেছিলেন। তাঁর মাথায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ঋণের বোঝা ছিল। কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথেই নিজের আত্মহত্যার গল্প ফাঁদেন। চেরুথুরুথি ব্রিজ থেকে ভারাথাপুজা নদীর ছবি তুলে তাঁর স্ত্রীকে পাঠিয়ে বলেন, "আমি নদীতে ঝাঁপ দিচ্ছি।" এরপরই ফোন বন্ধ করে দেন। পরিবারের কেউ অনেক চেষ্টা করেও আর যোগাযোগ করতে পারেননি।
দ্রুত পুলিশের কাছে গোটা ঘটনাটি জানায় সিরাজের পরিবার। তিনদিন ধরে নদীতে তল্লাশি চালিয়েও দেহ উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। এরপর আরও একটু তদন্ত এগোলে যুবকের গতিবিধি ধরা পড়ে বেঙ্গালুরুতে।
'মৃত' সিরাজের খোঁজে বেঙ্গালুরুতে হানা দেয় পুলিশের একটি দল। সেখানে একটি লজের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে তাঁর যাতায়াত। অবশেষে মধ্য বেঙ্গালুরুর মাজেস্টিক থেকে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। সেখানে উবের চালক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।
পুলিশি জেরায় সিরাজ স্বীকার করেন, পাওনাদারদের চাপ বাড়ছিল। টাকা দিতে না পারায় এই নাটক করতে বাধ্য হন। তাঁকে জেলা আদালতে পেশ করা হয়। এরপর নিজের ভুল স্বীকার করে ছাড়া পান সিরাজ।