রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে রামমোহন নাইডু বলেন, নতুন FDTL নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ক্রু রোস্টার এবং পরিকল্পনার গলদ ইন্ডিগোর সিস্টেমকে দুর্বল করে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 December 2025 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্ডিগোর (Indigo) লাগাতার ফ্লাইট–বাতিল নিয়ে ক্ষোভ তুঙ্গে, আর সেই অস্থিরতার মধ্যেই কেন্দ্র দাবি করল - কোম্পানির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাই (Internal Weakness) সঙ্কটের মূল কারণ। একইসঙ্গে আরও বড় অভিযোগ আনা হয় বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে।
সোমবার সংসদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামমোহন নাইডু (Rammohan Naidu) জানান, ১ ডিসেম্বরের বৈঠকে ইন্ডিগো (Indigo) কোনও সমস্যার কথা সরকারকে জানায়নি, অথচ পরের দিন থেকেই একের পর এক ফ্লাইট বাতিল (Flight Cancelled) হতে শুরু করে। অর্থাৎ, দাবি করা হচ্ছে কিছু বিষয় হয়তো বিমান সংস্থা লুকিয়ে গেছিল।
রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে রামমোহন নাইডু বলেন, নতুন FDTL নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ক্রু রোস্টার এবং পরিকল্পনার গলদ ইন্ডিগোর সিস্টেমকে দুর্বল করে। তাঁর বক্তব্য, “সঙ্কট সম্পূর্ণ ইন্ডিগোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা। অন্য সংস্থাগুলি কোনও বড় সমস্যা ছাড়াই নতুন নিয়মে মানিয়ে নিতে পেরেছে।”
গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া ফ্লাইট বাতিলের (Flight Cancelled) ঢেউ সপ্তাহজুড়ে অব্যাহত থাকে। সোমবার পর্যন্ত সাত দিনে প্রায় সাড়ে চার হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে ইন্ডিগো (Indigo)। দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথের ৬০ শতাংশ বাজার তাদের দখলে থাকায় যাত্রীদের ওপর তার প্রভাব ছিল ভয়াবহ - বাংলা সহ বিভিন্ন রাজ্যের বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়েন।
রাজ্যসভায় ইন্ডিগোর ইস্যুতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আরও হুঁশিয়ারি, যদি নিয়মভঙ্গ হয়, কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার এবং সেই পদক্ষেপ অন্য সংস্থাগুলির জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পাশাপাশি জানান, সরকার চায় আরও সংস্থা এই ক্ষেত্রে যোগ দিক। তাঁর কথায়, “ভারতের পাঁচটি বড় এয়ারলাইন রাখার সক্ষমতা রয়েছে। নতুন সংস্থাকে উৎসাহিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
রিফান্ড নিয়েও স্পষ্ট তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মোট ৫ লক্ষ ৮৬ হাজার ৭০৫ বাতিল বুকিংয়ের (যাত্রী হিসেব) জন্য ৫৬৯ কোটি টাকার রিফান্ড দেওয়া হয়েছে। যাত্রী–ভোগান্তি এড়াতে কঠোর CAR নিয়ম বলবৎ রয়েছে বলেও তাঁর দাবি। পাশাপাশি ইন্ডিগোর সফটওয়্যার সমস্যার তদন্ত শুরু হয়েছে।
ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে প্রবল সমালোচনার মধ্যে DGCA ইতিমধ্যেই শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে, যদিও সংস্থাকে জবাব দিতে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এ দিনও ৪০০–র বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলেই মনে করছেন যাত্রীরা।
তবে সংস্থার সাফ বক্তব্য, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পরিষেবা শুরু করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ তারিখের মধ্যে উড়ান পরিষেবা আগের মতো সচল হয়ে যাবে।
এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছিল, বাতিল বা দেরি হওয়া ফ্লাইটের টিকিটের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না সংস্থা। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশের পরই ইন্ডিগো মোট ৬১০ কোটি টাকা যাত্রীদের রিফান্ড দিয়েছে (IndiGo refund)। পাশাপাশি আটকে থাকা প্রায় ৩ হাজার ব্যাগ মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।