মন্ত্রী বলেন, নতুন যাত্রী–নিরাপত্তা বিধি কার্যকর হওয়ার পর ইন্ডিগোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি তৈরি হয়। তার জেরেই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়, হাজার হাজার যাত্রীর ভ্রমণ ব্যাহত হয়।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 December 2025 14:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে বিমানবন্দরে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল (Flight Cancelled), দীর্ঘ লাইনে আটকে থাকা যাত্রীরা - ইন্ডিগোর ক্রু–সংকট (Indigo) ঘিরে কয়েক দিনের অস্থিরতার পর সংস্থার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কড়া অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্র (Central Govt)। কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সংস্থাকে। সোমবার ফের জোরাল বার্তা দিলেন তিনি।
রাজ্যসভায় আজ রামমোহন নাইডু (Rammohan Naidu) বলেন, যদি নিয়মভঙ্গ হয়, কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার এবং সেই পদক্ষেপ অন্য সংস্থাগুলির জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অর্থাৎ, ইন্ডিগো বিপর্যয়ে (Indigo) সরকারের তরফে যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলির জন্যও উদাহরণ (Example) হিসেবে রাখতে চান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নতুন যাত্রী–নিরাপত্তা বিধি কার্যকর হওয়ার পর ইন্ডিগোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি তৈরি হয়। তার জেরেই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়, হাজার হাজার যাত্রীর ভ্রমণ ব্যাহত হয়। তাঁর কথায়, “পাইলট, ক্রু এবং যাত্রী - সবার নিরাপত্তা ও স্বার্থই আমাদের অগ্রাধিকার। সব সংস্থাকে আমরা আগেই জানিয়েছিলাম। ইন্ডিগোকে (Indigo) নিজেদের ক্রু ও রোস্টারের ওপর নজরদারি শক্ত করতে হত। এত মানুষের ভোগান্তিকে আমরা হালকা ভাবে নিচ্ছি না। কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
বিমান পরিবহণ খাতে আরও সংস্থাকে অংশগ্রহণে উৎসাহ দিতে চায় কেন্দ্র - এই কথাও মন্ত্রী এদিন উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ভারতের বাজার পাঁচটি বড় এয়ারলাইন ধরে রাখার মতো সামর্থ্য রাখে। তবে তাঁর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি বিরোধী দল। আলোচনা চলাকালীনই তাঁরা অসন্তোষ প্রকাশ করে সভা থেকে ওয়াক-আউট করেন।
ইন্ডিগো বিপর্যয় সোমবার সপ্তম দিনে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের বিমান চলাচল সংক্রান্ত সংস্থা ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) নতুন করে পাইলটদের প্রতি আর্জি জানিয়েছে কাজে যোগ দিতে।
ডিজিসিএ (DGCA) ইন্ডিগোর অ্যাকাউন্টেবল ম্যানেজার এবং সিইওকে ৬ ডিসেম্বর জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার দিতে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। ৮ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ এবং উপযুক্ত উত্তর জমা না দিলে বিষয়টিতে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছিল, বাতিল বা দেরি হওয়া ফ্লাইটের টিকিটের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না সংস্থা। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশের পরই ইন্ডিগো মোট ৬১০ কোটি টাকা যাত্রীদের রিফান্ড দিয়েছে (IndiGo refund)। পাশাপাশি আটকে থাকা প্রায় ৩ হাজার ব্যাগ মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্ডিগোর এক কর্মীর লেখা 'খোলা চিঠি' (Open Letter) সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ইন্ডিগো-র (IndiGo) এই দুরাবস্থার জন্য সংস্থার সিইও পিটার এলবার্স-সহ (IndiGo CEO Pieter Elbers) অন্যান্য শীর্ষকর্তাদের দায়ী করেছেন ওই কর্মী (চিঠির সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল)। তাঁর দাবি, ইন্ডিগোর বর্তমান সঙ্কট এক দিনে তৈরি হয়নি, বরং বছরের পর বছর ধরে চলে আসা দুর্বল প্রশাসন, অব্যবস্থা, কর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণ এবং নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্তের ফল।