এদিনই কোচবিহার সফরে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিকেলে সেখানে প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে তাঁর। এর পাশাপাশি আগামিকাল কোচবিহারে একটি জনসভাও করবেন তিনি।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 8 December 2025 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবার সংকট (Indigo flight cancellation crisis) সোমবার সপ্তম দিনে পড়েছে। পরিস্থিতি এখনও ঠিক না হওয়ায় আতান্তরে যাত্রীরা। আর এই সামগ্রিক পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রকেই দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
কেন্দ্রকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কেন্দ্রের অব্যবস্থার জন্যই এই পরিস্থিতি। লক্ষ লক্ষ মানুষকে হয়রানি করা হল। আসলে এরা দেশের ব্যাপারে চিন্তিত নয়, তাদের চিন্তা ভোট, ইভিএম এসব নিয়ে। আমরা মানুষের কথা ভাবি।"
একই সঙ্গে রবিবার ব্রিগেডের গীতাপাঠ (Gitapath) অনুষ্ঠানে তাঁর না যাওয়া নিয়েও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন কোচবিহার সফরে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেলে সেখানে প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে তাঁর। এর পাশাপাশি আগামিকাল কোচবিহারে একটি জনসভাও করবেন তিনি। ওই সফরের পথে এদিন বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
গত কয়েকদিন ধরে ইন্ডিগোর উড়ান পরিষেবা বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। শুধু দুর্ভোগ নয়, সুযোগ বুঝে কোনও কোনও এয়ারলাইন্স বিমান ভাড়াও অত্যধিক মাত্রায় বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে যাত্রীদের কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে মমতা বলেন, "এয়ারলাইন্স বলছে, আমরা গভর্নমেন্ট এর কথা শুনছি। আসলে এদের কোনও প্ল্যানিং ছিল না। প্যাসেঞ্জারদের বলব, আপনারা কোর্টে যান।" প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
এদিন বিমানবন্দরে গিয়ে এ ব্যাপারে সেখানকার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। ইন্ডিগোর অব্যবস্থার বিষয়টিও তাঁদের কাছ থেকে শোনেন তিনি। মমতার কথায়, কেউ এক্সট্রা প্রেসার পাইলটদের উপর দেয়, তার জন্য সিস্টেম করা উচিত। এমনকী এই পরিস্থিতির পরও যে সব বিমান যাচ্ছে, তার ভাড়া ৫০ হাজার হয়েছে। এক বর বউ তাদের বিয়েতে পৌঁছতে পারেননি দেখলাম। এটা ডিসাস্টার। কেন্দ্রীয় সরকারের আগে প্ল্যান করা উচিত ছিল। এখন সময় মানুষের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
পরিস্থিতির মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় তৎপরতার দাবি জানিয়ে মমতা বলেন, আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করব যাতে অর্ধেক প্লেন অন্তত চলে। বা ট্রেনের ব্যবস্থা অন্তত করুক। টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরই শ্লেষের সুরে যোগ করেন, "এরা তো নেতাজি রামমোহনকেও মানে না!"
ব্রিগেডে অনুষ্ঠিত হওয়া রবিবারের ব্রিগেড নিয়েও মুখ খুলেছেন মমতা। আয়োজকরা মুখ্যমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে মুখ্যমন্ত্রী না যাওয়ায় শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদারের মতো রাজ্য বিজেপির নেতারা মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে নানাবিধ মন্তব্য করেছেন।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, "নিরপেক্ষ অনুষ্ঠান হলে আমি নিশ্চয়ই যেতাম, কিন্তু বিজেপির প্রোগ্রামে কীভাবে যাব?" খানিক থেমে মুখ্যমন্ত্রীর সদুত্তর, "আমারও তো একটা আইডিওলজি আছে। আমি সব ধর্ম সব বর্ণকে সম্মান করি। কিন্তু এই শিক্ষা আমার পরিবার আমায় দেয়নি।"