চুলোর ধোঁয়া কম, দরজার খিল শক্ত। শিশুর কান্নাও যেন চাপা।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 4 December 2025 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার দিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু যেন সময় থমকে আছে সুন্দরবনের উপেন্দ্রনগরে (Royal Bengal Tiger, Sundarban jungle)।
সোমবার ভোরের কুয়াশা ভেদ করে যে বড় বড় পায়ের ছাপ দেখা দিয়েছিল ঠাকুরান নদীর চর লাগোয়া জঙ্গলে, তার পর থেকেই গ্রামজুড়ে যেন এক ‘অদৃশ্য আতঙ্ক’। বাঘ—হ্যাঁ, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার—এই শব্দটাই যেন এখন দিনের আলোকে গ্রাস করেছে।
সোম, মঙ্গল, বুধ পেরিয়ে বৃহস্পতিবার। গ্রামজুড়ে এখনও ছড়িয়ে–ছিটিয়ে তাজা পায়ের ছাপ। মাপ, গভীরতা, নিখুঁত চিহ্ন—সবই বলছে, “এ বাঘই!” বন দফতরের কর্মকর্তাদের গলায় যেন দৃঢ়তার সঙ্গে শোনা গেল আতঙ্কের সুর।
গ্রাম চারদিক থেকে জাল দিয়ে ঘিরে ফেলেছে বন দফতর। লাঠি হাতে টহল। কিন্তু বাঘটা কোথায়? জঙ্গলে ফিরে গেল? নাকি ঘরবাড়ির আড়ালেই ঘুরে বেড়াচ্ছে অদেখা ছায়ার মতো?
আকাশে ড্রোন উড়ছে। জঙ্গলের ধারে ফেলে রাখা হয়েছে লোহার খাঁচা। মাইকে ঘোষণা—“আতঙ্কিত হবেন না।” কিন্তু গ্রামবাসীর ভরসা কোথায়? সূর্য অস্ত যাওয়া তো দূরের কথা—দিনের আলোতেও এখন উপেন্দ্রনগরে নীরবতা। চুলোর ধোঁয়া কম, দরজার খিল শক্ত। শিশুর কান্নাও যেন চাপা।
গ্রামবাসীদের কথায়, আতঙ্কে দিন-রাত সমান হয়ে গেছে। এক একটা দিন যেন কাটতেই চাইছে না। এক গ্রামবাসী বললেন, যেভাবে গ্রাম জুড়ে বাঘের পায়ের ছাপ, তাতে স্পষ্ট ও আশেপাশের জঙ্গলেই রয়েছে।
সুন্দরবনের গ্রাম থেকে মানুষকে বাঘের টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ফলে বাঘ না ধরা পর্যন্ত গ্রামবাসীরা পারতপক্ষে ঘর থেকে বেরানোর সাহস দেখাচ্ছে না। একান্ত দরকারে বেরোতে হলেও একসঙ্গে চার, পাঁচজন মিলে বেরোচ্ছেন। হাতে শক্ত লাঠি।
কবে ধরা পড়বে বাঘ! সেদিকেই তাকিয়ে গ্রামের সাত থেকে সাতাত্তর সকলেই।