গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (Gorkha jonmukti morcha) সভাপতি বিমল গুরুং (Bimal Gurung) ও সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি (Roshan Giri) এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 October 2025 21:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোর্খাল্যান্ডের (Gorkhaland) দাবি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে একজন মধ্যস্থতাকারী (interlocutor) নিয়োগ করল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের প্রাক্তন উপ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তথা অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ কুমার সিংহকে (retired IPS officer Pankaj Kumar Singh)এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিং এবং লাগোয়া এলাকায় গোর্খাদের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়াগুলি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে নিয়োগ করা হয়েছে রাজস্থান ক্যাডারের এই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তাকে।
এই নিয়োগ এর আগে নবান্নের সঙ্গে নয়া দিল্লির কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। নিয়োগের বিষয়টি রাজ্য সরকারকে অবগত করার বিষয়েও কোন মহলই আলোকপাত করতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক অতীতে দিল্লিতে দার্জিলিং ইস্যুতে হওয়া বৈঠকগুলিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অংশ নেয়নি।
অন্যদিকে, গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (Gorkha jonmukti morcha) সভাপতি বিমল গুরুং (Bimal Gurung) ও সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি (Roshan Giri) এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী বা ইন্টারলোকুটার পঙ্কজ কুমার সিং একজন অভিজ্ঞ জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ (security advisor)। সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক আলোচনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা, জেলা বিজেপি সম্পাদক পঙ্কজ কুমার সিং এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, দার্জিলিং পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্স অঞ্চলের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার এটি নয়া অধ্যায়। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভোটের অঙ্ক কাজ করছে বলে একাধিক মহল মনে করছে।
দার্জিলিং এবং লাগোয়া এলাকার নিয়ে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গঠনের দাবি বহু পুরনো। এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার এতদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সচিব অথবা যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার অফিসারদের নেতৃত্বে আলোচনা জারি রেখেছিল। এই প্রথম আলাদা করে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে একজন সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে নিয়োগ করল।
এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্রীয় সরকার শুধু রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে না। বরং অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কৌশলগত নিরাপত্তাকে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সিংহের নির্বাচন 'কৌশলগত', কারণ তাঁর জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে অতুলনীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে তাঁর শান্ত স্বভাব। তিনি একজন মনোযোগী শ্রোতা হিসেবেও আমলা মহলে পরিচিত।
দীর্ঘ সময় তিনি বিএসএফের ডিজির দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসর নেওয়ার পর, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবালয়ে দুই বছরের মেয়াদে ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্বে জাতিগত সংঘাত মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা তাঁকে গোর্খা ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।