অতীতের সেই ঝড়ঝাপটা সময়ের কথা টেনে মমতার সংযোজন, “দুর্দিনে যখন কেউ পরে, আমি তখনও পাশে থাকি। অপজিশনে থেকেও রাইটার্সে গিয়ে বলেছিলাম— যদি আমার সাহায্য লাগে, বলুন। তার আগে আমাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে রাইটার্স থেকে বের করে দিয়েছিল, তবু মানুষের জন্য সেদিন গিয়েছিলাম।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 17 October 2025 19:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীপুজোর আলোয় ঝলমল মঞ্চ, আর তার মাঝেই রাজনীতির তীক্ষ্ণ ইঙ্গিত ও ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ, শুক্রবার জানবাজার সম্মিলিত কালীপুজো সমিতির উদ্বোধনে মঞ্চে উঠে একের পর এক প্রসঙ্গ ছুঁয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ দুর্যোগে রাজ্য প্রশাসনের কাজের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন, “বিরোধীরা সাহায্য তো দূরে থাক, কুৎসা করতে ব্যস্ত।” প্রশাসনের কর্মী, পুলিশ, দমকল— যাঁরা প্রাণপাত করে উদ্ধারকাজ করেছেন, তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা করেন মমতা। মঞ্চ থেকেই কয়েকজন সরকারি কর্মীকে পুরস্কৃতও করেন তিনি।
এরপরই কথার স্রোত ঘুরে যায় অতীতে— ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের (Babri Masjid Incident) সময়ের দিকে। সেখানেই মমতার কণ্ঠে ফিরে আসে তৎকালীন কলকাতার অশান্ত সময়ের স্মৃতি।
“বাবরি মসজিদ ভাঙার সময় দেখেছিলাম, জ্যোতি বসু-বুদ্ধবাবু (Jyoti Basu, Buddhadev Bhattachariya) কেউ রাস্তায় নামেননি। একজনও সিপিএম নেতাকে রাস্তায় দেখা যায়নি। আমি একা ঘুরে বেড়িয়েছিলাম সারা কলকাতায়” — বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, “তখন আমি স্পোর্টস মিনিস্টার ছিলাম। রেজিগনেশন দিয়েছিলাম, কিন্তু মানুষকে ছেড়ে থাকিনি। শিয়ালদহ, গার্ডেনরিচ, মেটিয়াবুরুজ— সব জায়গায় গিয়েছি। হিন্দু এলাকায় গেলে গাড়ি ঘিরে ধরেছে, মুসলিম এলাকায় গেলে তলোয়ার তুলে আক্রমণ করেছে। কিন্তু আমি দু’পক্ষকেই বোঝানোর চেষ্টা করেছি।”
মমতা জানান, সে সময় সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষা না করে নিজেই রিলিফ প্যাকেট তৈরি করে মানুষের মধ্যে বিলি করতেন। বলেন, “বাড়িতেই বানাতাম চাল, ডাল, তেল দিয়ে প্যাকেট। আজ যে রাজ্যজুড়ে খাদ্যসুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছি, তার বীজ তখনই বোনা হয়েছিল।”
স্মৃতিচারণে উঠে আসে মাদার টেরেজার কথাও। মমতার স্মৃতিতে, “শিয়ালদহে খাবার দিতে গিয়ে দেখি মাদার দাঁড়িয়ে আছেন। উনি বললেন, ‘তুমি এখানে?’ আমি বলেছিলাম, আপনি যে কাজ করছেন, আমিও সেই কাজ করতে এসেছি।”
এরপর একদিন রাতে ফোন করে মাদার টেরেজা তাঁকে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন বলেও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। “রাত ১০টা নাগাদ ফোন করে বললেন, সিপিএমের গুন্ডারা আশ্রম দখল করছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে এমন ব্যবস্থা করেছিলাম যে তারা পালিয়ে গেছিল,” বলেন মমতা।
অতীতের সেই ঝড়ঝাপটা সময়ের কথা টেনে মমতার সংযোজন, “দুর্দিনে যখন কেউ পরে, আমি তখনও পাশে ছিলাম, আছি, থাকব। অপজিশনে থেকেও রাইটার্সে গিয়ে বলেছিলাম— যদি আমার সাহায্য লাগে, বলুন। তার আগে আমাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে রাইটার্স থেকে বের করে দিয়েছিল, তবু মানুষের জন্য সেদিন গিয়েছিলাম।”
একদিকে কালীপুজোর শুভক্ষণ, অন্যদিকে রাজনীতির নস্টালজিয়া— মমতার বক্তৃতায় যেন মিশে গেল অতীতের আগুন আর বর্তমানের আত্মবিশ্বাস।