পুলিশ সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল যে, স্কুল-কলেজ, অফিস-কাছারির দিন বাদ দিয়ে বিজয়োৎসব রবিবার, ছুটির দিন করতে।

বুধবার চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে জনসমুদ্র। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 5 June 2025 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশের কথায় কান দেয়নি কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার। পুলিশ সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল যে, স্কুল-কলেজ, অফিস-কাছারির দিন বাদ দিয়ে বিজয়োৎসব রবিবার, ছুটির দিন করতে। কিন্তু, আয়োজকদের চাপে সরকার সেই পরামর্শে আমল দেয়নি। সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশের কথা শুনে চললে সম্ভবত এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্নাটক হাইকোর্টের আনা স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি শুরু হয়ে গিয়েছে। আদালতে পুলিশ শুরুতেই জানায়, আমরা কোনও দায় চাপানোর কথা বলতে চাই না। যা ঘটেছিল তা আদালতের সামনে তুলে ধরতে চাই।
এদিকে, বেঙ্গালুরুতে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ একটি করে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। কোনও সংস্থা, সংগঠন বা কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়নি। এই ঘটনায় ফের একবার সকলের চোখ কপালে উঠেছে। বেঙ্গালুরু শহর পুলিশ এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের দুর্ঘটনায় কোনও এফআইআর দায়ের না করায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে।
বেঙ্গালুরু পুলিশ সরকারকে বলেছিল ফাইনালে জেতার পরদিনই বিজয়োৎসব না করতে। কারণ একে জেতার উচ্ছ্বাস চরমে ছিল মানুষের মনে। দ্বিতীয়ত, বুধবার ছিল কাজের দিন। সে কারণে রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের ভিড়ও থাকবে বলে পুলিশ সতর্ক করেছিল সরকারকে। কিন্তু, নিরাপত্তার দিকে না তাকিয়ে সরকারপক্ষ পরদিনই অর্থাৎ বুধবারেই উৎসব পালনে অনড় মনোভাব দেখায়।
পুলিশের তরফে সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছিল যে, অনুষ্ঠানটি রবিবার করলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাতে সময় পাওয়া যাবে। তাছাড়া রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় গাড়িঘোড়া কম থাকবে, শহরের বাইরে থেকে আসা মানুষের সংখ্যাও কম হবে। ইতিমধ্যে শহর জুড়ে ব্যারিকেড বসিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু, কংগ্রেস সরকার সেসব পরামর্শ কানেই তোলেনি।
সরকারের নির্দেশে গত ৩ ও ৪ জুন সকাল ৪টে পর্যন্ত পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণে যতটুকু সম্ভব প্রস্তুতিপর্ব চালিয়েছে। আর দুরাত টানা জেগে কাজ করার ফলে বুধবার সকাল থেকে পুলিশ বাহিনীর দম ফুরিয়ে গিয়েছিল। পুলিশের বড় কর্তারা নাম গোপন রেখে জানান, অসম্ভব গরমে টানা কাজ করে প্রতিটি কর্মী ক্লান্ত ছিলেন। বুধবার সকাল থেকে যখন ভিড় জমতে শুরু করে, এবং তার পর যখন রাশি রাশি মানুষ জমা হতে শুরু করেন, তখন পুলিশ কর্মীদের আর গায়ে শক্তি ছিল না।