রেস্তরাঁর কিচেনে ভেজ ও ননভেজ রান্নার জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। তাই সেখানেই সন্দেহ শুরু হয় কর্তৃপক্ষের।

ফাঁস হওয়া সিসিটিভি ফুটেজের দৃশ্য
শেষ আপডেট: 6 August 2025 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ১০-১২ জনের এক বন্ধুবান্ধবের দল রেস্তরাঁয় খেতে গিয়ে অর্ডার করলেন খাবার, যার মধ্যে ছিল ভেজ এবং নন-ভেজ বিরিয়ানি। গুরুতর 'অভিযোগ' উঠল রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে - ভেজ বিরিয়ানির মধ্যে নাকি পাওয়া গেছে মাংসের হাড়।
ঘটনাটি ঘটেছে গোরখপুরের শাস্ত্রী চকের কাছে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার জনপ্রিয় রেস্তরাঁ ‘Biryani Bay’-এ, ৩১ জুলাই রাতে।
বিল দেওয়ার সময় সেই হাড় নিয়ে শুরু হয় তুলকালাম কাণ্ড। রেস্তরাঁর মালিক দাবি করেন, তাদের কিচেনে ভেজ ও ননভেজ রান্নার জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। তাই নিরামিষ খাবারে হাড় বা অন্য কোনও আমিষ খাবার মিশে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
সেখানেই সন্দেহ শুরু হয় কর্তৃপক্ষের। ঝামেলা বাড়তে থাকায় পুলিশ আসে রেস্তরাঁয়।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানা যায় – ওই দলটি নিজেরাই হাড়ের টুকরো ভেজ বিরিয়ানির প্লেটে রেখে দেন। উদ্দেশ্য স্পষ্ট, ৫-৬ হাজার টাকার বিরিয়ানি খেয়ে যাতে দাম না দিতে হয়।
এই ভিডিও দেখে পুলিশের পক্ষেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ জানায়, এখনও পর্যন্ত কেউ কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি, তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
Biryani Bay-এর মালিক বলেন, ‘ওরা বিল না দেওয়ার জন্য পুরো নাটক সাজিয়েছিল। ওই হাড় ওরাই প্লেটে রেখেছিল। পুরো ঘটনাই পরিকল্পিত।’
এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। অনেকের বক্তব্য, শ্রাবণ মাসের মতো পবিত্র মাসে এমন ঘটনা ঘটানো মানে ধর্মীয় আবেগকে আঘাত করার চেষ্টা।
একটি ভাইরাল এক্স (X) পোস্ট বলছে, ‘এমন আচরণ বেকারত্ব আর ভঙ্গুর অর্থনীতিরই প্রতিফলন।’ @mohitlaws নামের এক হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা হয় এবং ১৮ হাজারেরও বেশি ভিউ পায়।
একজন লেখেন, ‘একেই বলে বিল না দেওয়া, ইচ্ছে করে গন্ডগোল তৈরি করা আর দুই ধর্মকেই অপমান করা - সব একসঙ্গে।’
আরেকজন বলেন, ‘রেস্তরাঁ মালিকের ভাগ্য ভাল যে, এটা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, নাহলে মিডিয়া হইচই করত, লাইসেন্স বাতিল হত, আর হয়তো মারধরও করা হত।’