৩৭ ডিজিটের এই টাকার অঙ্ক হঠাৎ একদিন নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেখলে যে কারও চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হতে বাধ্য।

এআই দিয়ে বানানো ছবি
শেষ আপডেট: 6 August 2025 15:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১ লক্ষ-তে কতগুলো শূন্য থাকে? অনেকেই হয়তো একবারে বলতে গিয়ে হোঁচট খাবেন।
এবার ভাবা যাক, সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কত টাকাই বা থাকতে পারে! খুব বেশি হলে কিছু হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লক্ষ পর্যন্ত। কিন্তু হঠাৎ যদি একদিন দেখতে পান আপনার অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা, যার সংখ্যাই গুণে শেষ করা যাচ্ছে না, খুশি তো দূরের কথা – চিন্তায় মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি হবে।
ঠিক এমনটাই হয়েছে গ্রেটার নয়ডার ডানকৌরের বাসিন্দা দীপকের। এমন এক অদ্ভুত ঘটনায় প্রকাশ্যে আসার পর হতবাক সকলেই।
২০ বছর বয়সি দীপক দাবি করেন, তাঁর প্রয়াত মা গায়ত্রী দেবীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ দেখা যায় একপ্রকার অসম্ভব সংখ্যার টাকা জমা হয়েছে - ১০,০১,৩৫,৬০,০০,০০,০০,০০,০০,০১,০০,২৩,৫৬,০০,০০,০০,০০,২৯৯।
৩৭ ডিজিটের এই টাকার অঙ্ক হঠাৎ একদিন নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেখলে যে কারও চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হতে বাধ্য।
দু’মাস আগে গায়ত্রী দেবীর মৃত্যুর পর দীপক মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু এই বিপুল অঙ্কের টাকার মেসেজ পেয়ে তিনি অবাক হয়ে যান এবং সেটি বন্ধুদের পাঠিয়ে সংখ্যা গোনার অনুরোধ করেন। এই অদ্ভুত ঘটনার কথা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়, নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও মজার প্রতিক্রিয়া।
কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্কের কী বক্তব্য?
ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক এক বিবৃতিতে জানায়, এই ধরনের ‘অস্বাভাবিক ব্যালেন্স’ সংক্রান্ত মিডিয়া রিপোর্টগুলো সঠিক নয়। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক পরিমাণ টাকা রয়েছে বলে যে রিপোর্টগুলি ছড়িয়েছে, তা ঠিক নয়। আমরা গ্রাহকদের অনুরোধ করব, নিজের অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য আমাদের মোবাইল অ্যাপ কিংবা নেটব্যাঙ্কিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন। আমাদের সব পরিষেবাই স্বাভাবিক রয়েছে, এবং ব্যাঙ্কের সিস্টেম সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সচল।”
এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসে আয়কর বিভাগও। প্রাথমিকভাবে আয়কর দফতর তদন্তও শুরু করে দেয়, কারণ ডিজিটাল স্ক্যামের বাড়বাড়ন্তের এই সময় হঠাৎ এই বিপুল অঙ্কের লেনদেন নিঃসন্দেহে সন্দেহজনক। তবে ব্যাঙ্কের বিবৃতির পর স্পষ্ট হয়, অ্যাকাউন্টে এমন কোনও বিপুল পরিমাণ টাকা আসলে ছিল না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে মজা শুরু হয়ে ও বয়ে যায় মিমের বন্যা। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর, অনেকেই এই ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে বলেছেন “এই তো, আরেকজন ‘হঠাৎ কোটিপতি’!” কেউ কেউ তো বলেই ফেলেছেন, “এ তো আম্বানির থেকেও বড়লোক!”
একজন X ব্যবহারকারী মজার ছলে হিসেব কষে লেখেন, যদি ওই টাকা সমানভাবে ভারতের জনগণের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়, তাহলে কী দাঁড়ায়? সেই নিয়ে বিস্তারিত হিসেব করেও দেখান তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁর কথায়, ২০২৫-এ যদি সারা বিশ্বের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি হয় আর এই অঙ্ক পুরো দেশবাসীর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়, তাহলে প্রত্যেকের ভাগে আসবে প্রায় ৮১ কোটি ১১ লাখ টাকা! এক কথায়, সবাই কোটিপতি।
আসল সত্য কী?
যদিও মেসেজটি দেখে মনে হয়েছিল কোটিপতি হয়ে গিয়েছেন দীপক, তবে এটা সম্ভবত কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা এসএমএস সফটওয়্যারের গ্লিচ। ব্যাঙ্কের বিবৃতি অনুযায়ী, এটা আদৌ কোনও বাস্তব লেনদেন ছিল না।