ভাঙা মনের এই পৃথিবীতে কাউকে না কাউকে, অন্তত কোনও না অজুহাতে জুড়ে রেখেছে পোকেমনের ছবিওয়ালা এক ভাঙা টিফিন বক্স।

ছবি - আঁচল রাওয়াতের সোশ্যাল মিডিয়া
শেষ আপডেট: 5 August 2025 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কান পাতলে শোনা যায়, ষোলো বছর বয়স আসতে আসতে নাকি বেশিরভাগ মানুষই তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীর (Life partner) দেখা পেয়ে যান। সত্যি কি মিথ্যে, সেটা তো পরীক্ষাসাপেক্ষ। প্রেম (Love) পুরো ব্যাপারটাই যেন ভূতের অস্তিত্বের মতো। বিশ্বাস যদি করো তাহলে সে আছে, নাহলে নেই।
ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে, ‘serendipity’, যার বাংলা অর্থ করতে গেলে দাঁড়ায় কিছুটা এমন - সুন্দর, অপ্রত্যাশিত এক ‘দুর্ঘটনা’। অর্থাৎ, আকস্মিকভাবে খুঁজে পাওয়া এমন কিছু যা, আদতে জীবনের এক উপহার।
এই বছরের ফ্রেন্ডশিপ ডে-তে (Friendship day) সকলের মনের খুব কাছে হয়ে উঠেছে অন্যরকম বন্ধুত্বের এক গল্প। সম্পর্কে তাঁরা এখন স্বামী-স্ত্রী। স্কুলে পড়াকালীন মোটেই ভাল সম্পর্ক ছিল না তাঁদের মধ্যে। বন্ধুত্বের ছিটেফোঁটা তো দূর, প্রায় মুখ দেখাদেখি বন্ধের পর্যায়ের এক সম্পর্ক থেকে কীভাবে আজ তাঁরা এক জীবনের সরলরেখা ধরে হাঁটছেন, তা ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায়। তাঁদের মধ্যে চেনাটা সেই ছোটবেলার, কিন্তু জানাটা যেন বহু বছর পরের এক ‘সেরেনডিপিটি’।
ফ্রেন্ডশিপ ডে-এর দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট (Social Media post) করেন আঁচল রাওয়াত (Aanchal Rawat)। স্বামীর সঙ্গে স্কুলের সময়ের একটা গ্রুপ ছবি, পাশাপাশি তাঁদের বিয়ের একটা ছবিও শেয়ার করেন তিনি। সেখানেই বন্ধুত্বের উদযাপনের কথা লিখে স্বামীকে উইশ করেন আঁচল। ভাগ করে নেন তাঁদের জীবনের গল্প। আর তা নিয়েই রীতিমতো ‘ব্লাশ’ (Blushing) করছে সোশ্যাল মিডিয়া (Social media)।
শুরুর দিকের গল্পটা খানিক এইরকম –
ছোট থেকেই ছেলেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করাটা আঁচলের স্বভাববিরুদ্ধ। স্কুলে একদিন তাঁরই ক্লাসের ভীষণ সিরিয়াস, ‘পড়াকু’ এক সহপাঠী কোন এক ‘দুর্ভাগ্যবশত’ টিফিন ভাগ করতে চেয়েছিল তাঁর সঙ্গে। পছন্দের ‘পোকেমন’ আঁকা টিফিন বক্স ভেঙে ফেলেছিলেন আঁচল ভুল করে। ছলছল চোখে সেই যে সেদিন সে বিদায় নিয়েছিল, আর কোনওদিন কথা বলেনি।
কাট ২, বছর ১৫ পর…
ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে ইতস্তত আনাগোনায় চোখে পড়ে চেনা এক মুখ, মনে পড়ে স্কুলের সেই ভাঙা পোকেমন টিফিন বক্স। ভাগ্য!
ওই যে ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমায় মাধুরী সেই কবেই বলে দিয়েছিলেন, সবার জন্য কাউকে না কাউকে বানিয়ে রেখেছেন উপরওয়ালা।
ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটের আলাপ আলোচনা, চেনাশোনার পর্বের একদম প্রথমেই ছেলেটির তরফ থেকে প্রথম বার্তা ভেসে এসেছিল, ‘আপনি কি আমাকে একটা নতুন টিফিন বক্স কিনে দেবেন?’
তারপরের গল্পটা তো সকলেরই জানা, আলাপ গড়িয়ে যায় বিয়েতে। আজও হয়তো তাঁদের রোজ ঝগড়া হয়, কিন্তু কারণটা হয়তো একদম অন্যরকম।
I MARRIED THE GUY WHO HATED ME IN SCHOOL
I was the kind of girl who didn't want to be friends with boys. A nerdy shy guy tried to share his lunch with me and i accidentally broke his pokemon tiffin box lol.. I think I almost made him cry that day and he never spoke to me… pic.twitter.com/6zKlV9Num7— Aanchal Rawat (@AanchalRaw3702) August 2, 2025
একদিন টিফিন বক্স ভেঙে ফেলা থেকে যে যাত্রা শুরু, আজ কোথাও গিয়ে একে অপরের জন্য টিফিন বানানো বা সেই টিফিন সময়মতো খাওয়া হয়েছে কিনা - সেই খোঁজ নেওয়া পর্যন্ত তো জীবনকে এই চেনা ছকের অঙ্কটা মেলাতেই হতো।
ভাঙা মনের এই পৃথিবীতে কাউকে না কাউকে, অন্তত কোনও না অজুহাতে জুড়ে রেখেছে পোকেমনের ছবিওয়ালা এক ভাঙা টিফিন বক্স।