অনেকেই কমেন্টে জানিয়েছেন, তাঁদের মারাঠি কথোপকথন বুঝতে পারেননি, কিন্তু মানবিকতা আর আবেগের কাছে হার মেনেছে ভাষার দূরত্ব।

শেষ আপডেট: 17 June 2025 15:48
ছাপোষা নিম্নবিত্ত পরিবারে এই তো সুখ- দু’টো ডাল ভাত আর রাত নামলে একটা শান্তির ঘুম। খেটে খাওয়া মানুষের কাছে শখ আহ্লাদ পূরণের সময় জীবনে আসে অনেক দেরি করে। টাকাপয়সা জমিয়ে একদিন একটু ভাল খাবার বা কখনও একটা সিনেমার টিকিটের সাইজের বিলাসিতা।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একটি মন ভাল করে দেওয়া ভিডিও। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের সম্ভাজি নগর এলাকার এক গয়নার শোরুমে এসেছেন নেহাতই সাধারণ চেহারার এক দম্পতি। স্ত্রীকে কিছু উপহার দেবেন বলে স্বামী সঙ্গে করে এনেছেন জীবনের তিলতিল করে জমানো পুঁজি।
ম্যানেজার সে খবর জানতে পেরে এগিয়ে এসে গল্প জুড়ে দেন তাঁদের সঙ্গে। হাসিঠাট্টার মাঝে কথা বলতে বলতে জেনে নেন তাঁদের জীবনের কথা।
এবার এল জিনিস কেনার পালা। হাতের ঝোলা ব্যাগ থেকে বেরোল একটা ৫০০ টাকার নোট। একে একে ১০, ২০ টাকার নোট। সবশেষে একটা ছোটখাট বোঁচকা। তাতে ভর্তি খুচরো পয়সা।
শোরুমের ম্যানেজার গোটা বিষয়টা বুঝতে পেরে তাঁদের একটি হার উপহার দেন। সঙ্গে একজোড়া কানের দুলও। এরপর বৃদ্ধের কাছে সরল আবদার জানান, নিজে হাতে স্ত্রীর হাতে সেটা তুলে দিতে হবে।
উপহার তো দিলেন ম্যানেজার, কিন্তু এত বড় দোকানে এসে কোনও টাকা না দিয়ে চলে যাবেন, এতেও যেন সম্মানে বাধে বৃদ্ধের। সমাজের খেটে খাওয়া মানুষের কাছে আত্মসম্মান বড় বালাই। প্রাণ যাক, সম্মান নিয়ে বাঁচাটাই বড় কথা। তাই সবচেয়ে ‘বড়’ নোটটি তুলে দিতে চেয়েছিলেন ম্যানেজারের হাতে। কিন্তু তাতে ম্যানেজারের উত্তর, ‘আপনার আশীর্বাদের হাত থাকলেই হবে। পান্ডুরঙ্গ (কর্নাটক, মহারাষ্ট্রের পূজিত দেবতা) আছেন, কিছুর অভাব হবে না কোনওদিন।’ কিন্তু বৃদ্ধ নাছোড়বান্দা, টাকা তিনি দেবেনই। উপায় নেই বুঝে অবশেষে দুটো ১০ টাকার নোট নেন ম্যানেজার।
স্বামীর চোখে জল, ধুতির খুঁট দিয়ে মুছে ফেললেন। তা দেখে স্ত্রীও আটকাতে পারলেন না নিজেকে। ভিডিওতেই স্পষ্ট, এমন এক মূল্যবান উপহার পেয়ে বিশ্বাস হচ্ছে না ওই দম্পতির। কিন্তু যেক’জন ভিডিওটি দেখেছেন, তাঁরা সবাই বুঝেছেন এই চোখের জল, অবিশ্বাস শুধু মূল্যবান এক উপহারের জন্য নয়, জীবনের অন্যতম এই দিনটি মনের মণিকোঠায় সাজিয়ে রাখছেন দম্পতি।
ভিডিওর শেষে দেখা যায়, তিনজনে মিলে হাসিগল্পে মশগুল। ওইটুকু সময়ের আলাপে তাঁদের মধ্যের ওই বন্ডিং বলছে এ যেন প্রতিদিনের মধ্যবিত্ত বাড়ির ড্রইংরুম, যেখানে দিনের শেষে বাবা-মা তাঁদের ছেলের সঙ্গে একান্তে পারিবারিক মুহূর্ত কাটাচ্ছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই চিত্র দেখে আবেগে ভেসে গিয়েছেন সকলে। সবাই এক জায়গাতেই সহমত। এই ঘটনায় নিতান্তই মানবিকতার নিদর্শন রেখে গিয়েছেন ওই গয়নার দোকানের ম্যানেজার। অনেকেই লিখেছেন চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি এই ভিডিও দেখে। কীভাবে যেন ওই মিনিট দুয়েকের ভিডিওতে এক সুখী পরিবারের ছবি খুঁজে পেয়েছেন নেটিজেনরা।
অনেকেই কমেন্ট বক্সে জানিয়েছেন যে, তাঁদের মারাঠি কথোপকথন বুঝতে পারেননি, কিন্তু মানবিকতা আর আবেগের কাছে হার মেনেছে ভাষার দূরত্ব।