কর্ণাটকের বিজয়পুরায় ক্যানারা ব্যাঙ্ক থেকে ৫২ কোটি টাকার সোনা চুরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত ডাকাতি এবং চোরেরা দীর্ঘ ছুটির সুযোগ নিয়ে অপারেশন চালায়। তদন্তে আটটি টিম গঠন করা হয়েছে।

কর্নাটকে বিরাট ব্যাঙ্ক ডাকাতি।
শেষ আপডেট: 3 June 2025 11:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ৫২ কোটি টাকা দামের ৫১ কেজি সোনার গয়না লুট হয়ে গেল ব্যাঙ্ক থেকে! কর্নাটকের বিজয়পুরা জেলায় কানারা ব্যাঙ্কের মানাগুলি শাখা থেকে এই এত বড় সোনা চুরির ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গেছে গোটা দেশে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি ভারতের বৃহত্তম সোনা চুরির ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে এত টাকার সোনা একসঙ্গে খোয়া যায়নি কোনও ব্যাঙ্ক থেকে।
জানা গেছে, মে মাসের ২৩ তারিখে সন্ধে ৬টা থেকে ২৫ মে দুপুর সাড়ে ১১টার মধ্যে এই চুরির ঘটনাটি ঘটেছে। কিন্তু ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকায়, তখন কিছুই জানা যায়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২৬ মে সকালে ব্যাঙ্ক কর্মীরা অফিসে ঢোকার পরে।
বিজয়পুরার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই ডাকাতিতে প্রায় ছয় থেকে আটজন জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের ধরতে আটটি বিশেষ তদন্তকারী দলও গঠন করা হয়েছে। তাঁর মতে, চোরেরা সুপরিকল্পিতভাবে কাজটি করেছে। মাসের চতুর্থ শনিবার ও রবিবারের টানা ছুটির সুবিধা নিয়ে ব্যাঙ্কে ঢুকেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, চোরেরা ব্যাঙ্কে ঢোকার জন্য জাল চাবি ব্যবহার করে, নিরাপত্তা অ্যালার্ম বন্ধ করে দেয়, সিসিটিভি ক্যামেরাও নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এর পরে ব্যাঙ্কের লকার ভেঙে সোনা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। সেই সঙ্গে পুরো নেটওয়ার্ক ভিডিও রেকর্ডারটিই সঙ্গে করে নিয়ে চলে যায়।
চমকপ্রদ বিষয় হ, ঘটনাস্থলে একটি কালো রঙের পুতুলও রেখে গেছে চোরেরা, যা দেখে পুলিশ ধারণা করছে, চুরির ঘটনাকে আধ্যাত্মিক বা ‘তান্ত্রিক কার্যকলাপ’ মনে করিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনার সঙ্গে মিল রয়েছে কর্নাটকেরই আরও দুটি বড়সড় ব্যাঙ্ক ডাকাতির। এই বছরেরই ১৭ জানুয়ারি, ম্যাঙ্গালুরু জেলার কোটেকরের একটি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক থেকেও ১২ কোটি টাকার সোনা লুট হয়। সেই ঘটনায় ছ'জনকে গ্রেফতার করা হয়। তার আগে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর, দাভানগেরে জেলার নিয়ামথি শহরে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার একটি শাখা থেকেও ১৩ কোটি টাকার সোনার অলঙ্কার চুরি হয়। সেই কেসেও পরে ছ'জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সম্প্রতি বিজয়পুরার কানারা ব্যাঙ্কে হওয়া এই চুরির ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। তবে পুলিশের ধারণা, অপরাধীরা স্থানীয় নয়। তারা বড় কোনও পেশাদার দলের অংশ। তদন্ত চলছে, এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের ট্র্যাক করতে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযানও চালানো হচ্ছে।