হাইনিকেন, ডিয়াজিও, পারনো রিকার্ড-সহ (Beer) একাধিক বহুজাতিক সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী তিনটি সংস্থা রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ৩৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি বকেয়া আর সহ্য করার মতো নয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 20 November 2025 19:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তেলঙ্গানার সরকারের (Telengana News) কাছে হাজার কোটি টাকার বকেয়া পড়ে রয়েছে— এই অভিযোগ তুলে ফের সতর্ক করল আন্তর্জাতিক বিয়ার-মদ প্রস্তুতকারীদের সংগঠনগুলি। হাইনিকেন, ডিয়াজিও, পারনো রিকার্ড-সহ (Beer) একাধিক বহুজাতিক সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী তিনটি সংস্থা রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ৩৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি বকেয়া আর সহ্য করার মতো নয়। দ্রুত টাকা না পেলে সরবরাহে সংকট তৈরি হবে, থমকে যেতে পারে ব্যবসাও।
সংস্থাগুলির বক্তব্য, তেলঙ্গানা ভারতের অন্যতম বড় মদ্যপানকারী বাজার ()। কিন্তু সেই বাজারকেই টানাটানির মুখে ফেলেছে সরকার–সংস্থা টানাপড়েন। বিগত কয়েক বছরে নিয়মিতই বকেয়া জমেছে। এ বছরের জানুয়ারিতে তো হাইনিকেনের সহযোগী সংস্থা ইউনাইটেড ব্রুয়ারির কিংফিশার বিয়ারের সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বকেয়া না মেটায়।
নতুন চিঠিতে সংস্থাগুলির দাবি, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে রাজ্যের কাছে তাদের ২৯.৮৫ বিলিয়ন টাকা (৩৩৭ মিলিয়ন ডলার) বকেয়া রয়েছে। উৎসবের মরসুমে যেখানে সাধারণত মদের বিক্রি বাড়ে প্রায় ৭৫%— তার ঠিক আগে এমন আর্থিক চাপ শিল্পের পক্ষে “অসম্ভব কঠিন”।
ব্রুয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া, সিআইএবিসি এবং ইন্টারন্যাশনাল স্পিরিটস অ্যান্ড ওয়াইনস অ্যাসোসিয়েশন–এর যৌথ চিঠিতে লেখা— “পুরনো বকেয়া না মেটানো এবং চলতি বিল দেরিতে মেটানোর কারণে শিল্পের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।” আরও সতর্কবার্তা, “অনেক সংস্থা হয়তো চালানোই সম্ভব হবে না। আর্থিক সংস্থান ফুরিয়ে এসেছে।”
উচ্চবাচ্য নেই তেলঙ্গানা সরকারের তরফেও। চিঠি নিয়ে বারবার প্রশ্ন পাঠানো হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। হাইনিকেন, ডিয়াজিও, পারনো রিকার্ড— কেউই মুখ খোলেনি।
তেলঙ্গানার মতো বহু রাজ্যেই মদ প্রস্তুতকারীদের শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ডিপোয় সরবরাহ করতে হয়। খুচরো বিক্রি থেকে সেই ডিপোই টাকা দেয় সংস্থাগুলিকে। ফলে পুরোপুরিই সরকার–নির্ভর হয়ে পড়ে কোম্পানিগুলির নগদ প্রবাহ। আর সেই নির্ভরতার ফাঁকেই বকেয়া–বিতর্ক ঘনীভূত।
এদিকে ভারতের মদ শিল্পকে ঘিরে কঠোর হচ্ছে নিয়মকানুন। বিজ্ঞাপনে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতা কমিশনের তদন্ত—এই সব মিলিয়ে বৃদ্ধি–পথে চলা বাজারেও চাপ বাড়ছে।
বস্তুত, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তেলঙ্গানায় মাদকপাচারের বড় চক্রের হদিস পায় পুলিশ। একটি মাদক তৈরির কারখানারও খোঁজ পায় তারা। সেখান থেকে ১২,০০০ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। শনিবার ওই কারখানা থেকে সেই মাদক এবং মাদক তৈরির সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।